🌺 রাধাষ্টমী ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম ও পূজা বিধি 🌺
🔸 ব্রতের পূর্বদিন
রাধার জন্মদিন মধ্যাহ্নে হওয়ায় উপবাস রাখা হয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত। রাধাষ্টমীর আগের দিন নিরামিষ ভোজন করতে হয়, একে সংযম বলা হয়।
সন্ধ্যায় সংকল্প নিতে হয় এবং রাধারানীর অধিবাস দিতে হয়। অধিবাসে মাঙ্গলিক দ্রব্য যেমন— পান, সুপারি, কলা পাতা, কলা, ঘট, ধান, দূর্বা, আমপাতা, শাড়ি, গামছা, সুগন্ধি ফুল, ডাব ইত্যাদি রাধারানীকে প্রদর্শন করা হয়।
ঘুমানোর আগে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করতে হবে, যাতে মুখে খাবারের কণা না থাকে।
🔸 ব্রতের দিন
রাধাষ্টমীর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করতে হয়। এরপর রাধারানীকে ভোগ নিবেদন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।
🌸 পূজা পদ্ধতি
-
সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে ধোয়া–মোছা কাপড় পরে একটি চৌকিতে লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে শ্রীশ্রী রাধা–কৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করুন। পাশে একটি পূজার ঘটও রাখুন।
-
রাধা–কৃষ্ণকে পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র ও অলংকারে সাজান।
-
যদি পূজার মন্ত্র জানা না থাকে তবে হরিনাম মহামন্ত্র উচ্চারণ করে সকল দ্রব্য নিবেদন করুন।
-
সময়মতো ঘট পূজা এবং রাধা–কৃষ্ণ পূজা করুন। রাধারানী বিশেষভাবে পদ্মফুলে সন্তুষ্ট হন। তাই পদ্মফুল নিবেদন করুন।
-
ফুল, ফল, মিষ্টি ও অন্নভোগ সাজিয়ে নিবেদন করুন।
- রাধারানীর প্রিয় ভোগ হলো দই আরবি (কচুর মুখী দিয়ে প্রস্তুত)।
- দুধজাতীয় বিভিন্ন পদও তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। তাই দুধ দিয়ে তৈরি নানান ভোগ নিবেদন করতে পারেন।
-
পূজার পর রাধারানীর উদ্দেশ্যে শ্লোক, ভজন ও কীর্তন পরিবেশন করুন। প্রসাদে দুধজাত দ্রব্য রাখুন এবং সর্বদা প্রসাদের উপরে তুলসীপাতা দিন।
-
রাধা–কৃষ্ণের প্রণাম মন্ত্র তিনবার জপ করে সুন্দরভাবে আরতি করুন। এরপর তিনবার প্রণাম মন্ত্র পাঠ করে পুষ্পাঞ্জলি দিন।
-
পূজা শেষে ক্ষমা প্রার্থনা মন্ত্র আবৃত্তি করে পূজা সমাপন করতে হবে, কারণ অজান্তে অনেক সময় ত্রুটি ঘটে যেতে পারে।
✨ এভাবেই ভক্তিভরে রাধাষ্টমী ব্রত ও পূজা পালন করলে রাধারানীর কৃপা লাভ করা যায়।

0 মন্তব্যসমূহ