অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১৮
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
****অর্থ: অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি নিমজ্জিত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জনের দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মুক্ত করেছেন। সেই শ্রীগুরুকে আমি প্রণাম জানাই।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম-মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
বাঞ্ছা-कल्प-তরুভ্যশ্চ কৃপা-সিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
****অর্থ: যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত আত্মাদের পরিত্রাতা—সেই সকল বৈষ্ণব ভক্তদের প্রতি আমার বারংবার প্রণাম।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।যৎ কৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবম্।।
****অর্থ: যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয় এবং পঙ্গুও পর্বত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়—সেই পরমানন্দময় মাধবকে আমি বন্দনা করি।
তপ্ত-কাঞ্চন-গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।বৃষভানু-সুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
****অর্থ: হে রাধারাণী! তপ্ত স্বর্ণের ন্যায় তোমার কান্তি। তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা এবং ভগবান হরির পরম প্রিয়া। তোমাকে আমি শ্রদ্ধাভরে প্রণাম জানাই।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
****অর্থ: হে করুণাময় কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীদের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমাকে আমার প্রণাম।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
****অর্থ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস এবং সমগ্র গৌরভক্তবৃন্দের চরণে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে 🙏
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়🙏
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
দ্বিতীয় অধ্যায়
সাংখ্যযোগ
শ্রীভগবান উবাচ
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিরেকেহ কুরুনন্দন৷
বহুশাখা হ্যনন্তাশ্চ বুধ্দয়োব্যবসায়িনাম্৷৷৪১
অর্থ: যারা এই পথ অবলম্বন করেছে তাদের নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি একনিষ্ঠ। হে কুরুনন্দন, অস্থিরচিত্ত সকাম ব্যক্তিদের বুদ্ধি বহুশাখা বিশিষ্ট ও বহুমুখী।
এই শ্লোক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাঃ
১। ব্যবসায়াত্মিকা= নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি =যে বুদ্ধি দৃঢ়ভাবে একের প্রতি স্থির
২। বুদ্ধি= বিচার বিবেচনা যথার্থ সত্য বুঝতে পারা
উদাহরণঃ কৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি বুদ্ধি স্থির করাই হচ্ছে নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি।এর জন্য সদগুরুর চরণে শরণাগতি থাকতে হবে।
৩। অস্থিরচিত্ত সকাম ব্যক্তিদের বুদ্ধি বহুশাখা বিশিষ্ট ও বহুমুখী।
৪। সকাম= নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য কর্ম করা
উদাহরণঃ ভগবান আর দেবদেবী
যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ৷
বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতি বাদিনঃ৷৷৪২
কামাত্মানঃ স্বর্গপরা জন্মকর্মফলপ্রদাম্৷
ক্রিয়াবিশেষবহুলাং ভোগৈশ্বর্যগতিং প্রতি৷৷৪৩
অর্থ: বিবেক বর্জিত লোকেরাই বেদের পুস্পিত বাক্যে আসক্ত হয়ে স্বর্গ সুখভোগ, উচ্চকুলে জন্ম, ক্ষমতা লাভ ইত্যাদি সকাম কর্মকেই জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে। ইন্দ্রিয় সুখভোগ এবং ঐশ্বর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বলে যে তার উর্ধ্বে আর কেউ নাই।
এই শ্লোক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাঃ
১। স্বর্গ, নরক এগুলো ক্ষণস্থায়ী। কর্মফল ভোগ শেষ হলে আবার এখানে এসে কর্ম করতে হবে।
২। বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য হচ্ছে, স্বর্গ নরকের চিন্তা বাদ দিয়ে, ভগবানের দেওয়া বিধান অনুসারে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করা। আর ভগবানের চরণে ভক্তি লাভের চেষ্টা করা
ভোগৈশ্বর্যপ্রসক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্৷
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে৷৷৪৪
অর্থ: যারা ভোগ ঐশ্বর্য্য সুখে আসক্ত সেই সমস্ত বিবেক বর্জিত ব্যক্তিদের বুদ্ধি সমাধি অর্থাৎ ভগবানের একনিষ্ঠতা লাভ হয় না।
এই শ্লোক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাঃ
ত্রৈগুণ্যবিষয়া বেদা নিস্ত্রৈগুণ্যো ভবার্জুন৷
নির্দ্বন্দ্বো নিত্যসত্ত্বস্থো নির্যোগক্ষেম আত্মবান্৷।৪৫
অর্থ: বেদে প্রধাণত জড় প্রকৃতির তিনটি গুণ সম্বন্ধেই বলা হয়েছে। হে অর্জুন, তুমি সেই গুণগুলিকে অতিক্রম করে নির্গুণস্তরে অধিষ্ঠিত হও। সমস্ত দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হও এবং লাভ ক্ষতি ও আত্মরক্ষার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে আধ্যাত্ম চেতনায় অধিষ্ঠিত হও।
এই শ্লোক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাঃ
১। বেদে প্রধাণত জড় প্রকৃতির তিনটি গুণ
সত্ত্ব, রজো এবং তমোগুণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২। এই জগতের সমস্তু কর্মই এই ত্রিগুণের প্রভাবে সংঘঠিত হয়।
৩। সত্ত্বগুণ জ্ঞানের দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে, রজোগুণ কামনা বাসনার দ্বারা, তমোগুণ অজ্ঞানতার দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।
৪। ভগবান আমাদের কে নির্গুণ স্তরে অধিষ্ঠত হওয়ার জন্য বলেছেন।
৫। যেভাবে আমরা নির্গুণ স্তরে অধিষ্ঠিত হবো👇👇
ক্লাসের ভিডিও



0 মন্তব্যসমূহ