🌸 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ৬
📖 আলোচ্য বিষয়সমূহ
🌼 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ 🌼
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থ: অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি আবৃত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জন দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার চক্ষু উন্মীলিত করেছেন।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরং।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থ: যিনি সমগ্র জগৎজুড়ে বিরাজমান, যিনি ব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করেন এবং যিনি সেই পরম সত্য দর্শন করান — তাঁকে প্রণাম।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্।।
অর্থ: যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয়, পঙ্গু পর্বত অতিক্রম করতে পারে — সেই পরমানন্দ মাধবকে বন্দনা করি।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
অর্থ: হে করুণাসিন্ধু কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীগণের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমায় প্রণাম।
তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানুসুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
অর্থ: হে রাধারাণী! তোমার দেহকান্তি তপ্ত স্বর্ণসম, তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা ও ভগবান হরির প্রিয়তমা। তোমায় প্রণতি।
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
অর্থ: যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত আত্মাদের উদ্ধারকর্তা — সেই সকল বৈষ্ণবভক্তদের বারবার প্রণাম।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
অর্থ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস ও গৌরভক্তবৃন্দ সকলকে প্রণাম।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে
📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ (অধ্যায় ১ — শ্লোক ১৩–২০)
১৩
ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ।
সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্দস্তুমুলোऽভবত্।।
অর্থ: এরপর শঙ্খ, ভেরী, পণব, আনক ও গোমুখ সিংহা—এসব একসাথে বেজে তুমুল শব্দ সৃষ্টি করল।
১৪
ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈর্যুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ।
মাধবঃ পাণ্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্মতুঃ।।
অর্থ: শ্বেত অশ্বযুক্ত দিব্য রথে বসে মাধব (শ্রীকৃষ্ণ) ও অর্জুন তাঁদের দিব্য শঙ্খ বাজালেন।
১৫
পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ।
পৌণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ।।
অর্থ: শ্রীকৃষ্ণ পাঞ্চজন্য শঙ্খ, অর্জুন দেবদত্ত শঙ্খ এবং ভীমকর্মা ভীম পৌণ্ড্র নামক ভীষণ শঙ্খ বাজালেন।
১৬
অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ।
নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমণিপুষ্পকৌ।।
অর্থ: মহারাজ যুধিষ্ঠির অনন্তবিজয় শঙ্খ, আর নকুল ও সহদেব সুঘোষ ও মণিপুষ্পক শঙ্খ বাজালেন।
১৭–১৮
কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ।
ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ।।
দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে।
সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্ দধ্মুঃ পৃথক্ পৃথক্।।
অর্থ: কাশিরাজ, শিখণ্ডী, ধৃষ্টদ্যুম্ন, বিরাট, সাত্যকি, দ্রুপদ, দ্রৌপদীর পুত্ররা এবং মহাবাহু সুভদ্রাসূত—সবাই তাদের নিজ নিজ শঙ্খ বাজালেন।
১৯
স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়ত্।
নভশ্চ পৃথিবীং চৈব তুমুলোऽব্যনুনাদয়ত্।।
অর্থ: সেই তুমুল শঙ্খধ্বনি আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের হৃদয় ভয়ে কাঁপিয়ে তুলল।
২০
অথ ব্যবস্থিতান্দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্ কপিধ্বজঃ।
প্রবৃত্তে শস্ত্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পাণ্ডবঃ।।
অর্থ: তখন হনুমানচিহ্নিত পতাকাবিশিষ্ট রথে আরোহী অর্জুন ধৃতরাষ্ট্রপুত্রদের যুদ্ধসজ্জা দেখে অস্ত্র ধারণে প্রস্তুত হয়ে হৃষীকেশকে বললেন—
🎥 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ৬ এর ভিডিও দেখুন।


0 মন্তব্যসমূহ