🌸 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ৭
📖 আলোচ্য বিষয়সমূহ
🌼 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ 🌼
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থ: অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি আবৃত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জন দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার চক্ষু উন্মীলিত করেছেন।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরং।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থ: যিনি সমগ্র জগৎজুড়ে বিরাজমান, যিনি ব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করেন এবং যিনি সেই পরম সত্য দর্শন করান — তাঁকে প্রণাম।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্।।
অর্থ: যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয়, পঙ্গু পর্বত অতিক্রম করতে পারে — সেই পরমানন্দ মাধবকে বন্দনা করি।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
অর্থ: হে করুণাসিন্ধু কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীগণের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমায় প্রণাম।
তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানুসুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
অর্থ: হে রাধারাণী! তোমার দেহকান্তি তপ্ত স্বর্ণসম, তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা ও ভগবান হরির প্রিয়তমা। তোমায় প্রণতি।
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
অর্থ: যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত আত্মাদের উদ্ধারকর্তা — সেই সকল বৈষ্ণবভক্তদের বারবার প্রণাম।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
অর্থ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস ও গৌরভক্তবৃন্দ সকলকে প্রণাম।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে
📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ (অধ্যায় ১ — শ্লোক ২১-২৫)
অর্জুন উবাচ
হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে৷
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেচ্যুত৷৷২১।
যাবদেতান্নিরীক্ষেহং যোদ্ধুকামানবস্থিতান্৷
কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন্ রণসমুদ্যমে৷৷২২।
অর্থ: অর্জুন বললেন- হে অচ্যুত্ অভ্রান্ত বন্ধু, তুমি উভয়পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে আমার রথ স্থাপন কর, যাতে আমি দেখতে পারি যুদ্ধ করার অভিলাষী হয়ে কারা এখানে এসেছে এবং আমাকে অস্ত্রধারণ করে কাদের সঙ্গে এই মহাসংগ্রাম করতে হবে।
যোত্স্যমানানবেক্ষেহহং য এতেত্র সমাগতাঃ৷
ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বুদ্ধের্যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ৷৷২৩।
অর্থ: আমি দেখতে চাই ধৃতরাষ্ট্রের দুর্বুদ্ধি সম্পন্ন পুত্রদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য কারা এখানে যুদ্ধ করতে এসেছে।
সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্তো হৃষীকেশো গুডাকেশেন ভারত৷
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম্৷৷২৪।
অর্থ: সঞ্জয় বললেন- হে ভারত বংশধর, অর্জুন কর্তৃক এইভাবে আদিষ্ট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ সেই উত্তম রথটি চালিয়ে নিয়ে উভয়পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে রাখলেন।
ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্৷
উবাচ পার্থ পশ্যৈতান সমবেতান্ কুরূনিতি৷৷২৫।
অর্থ: ভীষ্ম, দ্রোণ প্রমুখ পৃথিবীর অন্য সমস্থ নেতাদের সামনে ভগবান হৃষীকেশ বললেন - হে পার্থ, এখন সমস্ত কৌরবদের দেখ।
শিক্ষণীয় বিষয়ঃ
১। অর্জুনের ভগবানকে উভয় দলের মাঝখানে রথ স্থাপন
ইচ্ছাশক্তির ব্যবহার
ভগবানের নিরবতা
ভগবানের স্বরুপ সম্পর্কে অজ্ঞতা
২। আত্মীয় স্বজন যুদ্ধ ক্ষেত্রে উপস্থিত
🎥 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ৭ এর ভিডিও দেখুন।



0 মন্তব্যসমূহ