Ticker

6/recent/ticker-posts

অক্ষয় তৃতীয়া: মাহাত্ম্য ও পারমার্থিক গুরুত্ব Akkoi Tritiyar Mahatmo o Gurutho

 


#অক্ষয় তৃতীয়া: মাহাত্ম্য ও পারমার্থিক গুরুত্ব🌻

অক্ষয় তৃতীয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং সৌভাগ্যমণ্ডিত দিন। 'অক্ষয়' শব্দের অর্থ হলো যার ফল কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ দিনে কোনো শুভ কাজ করলে তার ফল চিরস্থায়ী এবং অক্ষয় থাকে। ‎ 🌸অক্ষয় তৃতীয়া: মাহাত্ম্য, ইতিহাস ও পারমার্থিক গুরুত্ব🌸 ‎ ‎অক্ষয় তৃতীয়া মানেই নতুন শুরুর দিন, যার পুণ্যফল কখনও শেষ হয় না। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। কেন এই দিনটি আমাদের জীবনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে আমরা এই দিনটিকে পালন করতে পারি। ‎ ▪️অক্ষয় তৃতীয়া কেন বিশেষ❓ ‎ ‎শাস্ত্র মতে, অক্ষয় তৃতীয়ায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা একে অনন্য করে তুলেছে:

🔸১. সত্য ও ত্রেতা যুগের শুরু: এই পবিত্র দিনেই সত্য যুগ ও ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল।

🔸‎২. গঙ্গা মর্ত্যে আগমন: মা গঙ্গা এই দিনেই মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

🔸‎৩. ভগবান পরশুরামের জন্ম: শ্রীবিষ্ণুর অবতার ভগবান পরশুরাম এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।

🔸৪. মহাভারত রচনা: মহর্ষি বেদব্যাসের নির্দেশে গণেশ জি এই দিনে মহাভারত লিখতে শুরু করেন।

🔸‎৫. অন্নপূর্ণা দেবীর কৃপা: এই দিনে মা অন্নপূর্ণা শিব ঠাকুরকে অন্ন দান করেছিলেন।

🔸৬. অক্ষয় পাত্র প্রাপ্তি: সূর্যদেব পাণ্ডবদের হাতে অক্ষয় পাত্র তুলে দিয়েছিলেন এই তিথিতেই।

🔸৭. সুদামা ও কৃষ্ণের মিলন: সুদামা যখন এক মুষ্টি চিঁড়ে নিয়ে কৃষ্ণের কাছে গিয়েছিলেন, কৃষ্ণ তাকে অক্ষয় ঐশ্বর্য দান করেছিলেন এই দিনেই।

🔸স্কন্দ পুরাণে উল্লেখ আছে— “অক্ষয়ম্ ফলমাপ্নোতি তৃতীয়াং কৃতম শুভম্” অর্থাৎ, অক্ষয় তৃতীয়ায় করা যে কোনও শুভকর্ম চিরস্থায়ী ফল প্রদান করে।।

🔸পদ্ম পুরাণে বলা হয়েছে—এই তিথিতে দান,জপ,হোম, তপস্যা—সবই বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং ভক্তকে অক্ষয় পুণ্য দান করে।।

🔸ভগবদ্গীতা (১৭.২০) এ শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "দাতব্যমিতি যদ্দানম্ দিয়াতেনুপকারিণ" অর্থাৎ, যে দান নিঃস্বার্থভাবে, কর্তব্যবোধে করা হয়—সেই দানই সত্যিকারের সাত্ত্বিক দান এবং তা কল্যাণদায়ক।। ‎ 🌿‎অক্ষয় তৃতীয়ায় করণীয় ও ব্রত পালন🌿 ‎ ‎এই দিনটিকে সঠিকভাবে পালন করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত: ‎ 🔸পবিত্র স্নান: সকালে উঠে গঙ্গা স্নান বা নিকটস্থ জলাশয়ে স্নান করা। গঙ্গায় যাওয়া সম্ভব না হলে স্নানের জলে গঙ্গার কথা স্মরণ করে স্নান করা। ‎ 🙇‎ভক্তি সহকারে পুজো: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বা বিষ্ণুর চরণে তুলসী ও চন্দন অর্পণ করা। মনে রাখবেন, বিষ্ণু তত্ত্বের চরণে তুলসী দেওয়া হলেও রাধারানী বা সখীদের চরণে তুলসী দিতে নেই, কেবল চন্দন কপালে দিতে হয়। ‎ 🔸দান-ধ্যান: এদিন শাস্ত্রগ্রন্থ (গীতা, ভাগবত), অন্ন বা বস্ত্র দান করলে তা অক্ষয় পুণ্য বয়ে আনে। ‎ 🔸‎ শাস্ত্র পাঠ: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম বা শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। ‎ 🔸 ‎সাত্ত্বিক আহার: সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা। মাছ, মাংস, পেঁয়াজ ও রসুন বর্জন করা উচিত। ‎ 🔸চন্দন যাত্রা: এদিন থেকে মন্দিরে চন্দন যাত্রা উৎসব শুরু হয়, যেখানে বিগ্রহকে চন্দন লেপন করে সাজানো হয়। ‎ 🌿একটি শিক্ষণীয় কাহিনী: দান ও ভাগ্যের পরিবর্তন🌿 ‎ ‎একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ কৃপণ হলেও তার স্ত্রী অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। অক্ষয় তৃতীয়ায় তার স্ত্রী এক মহাত্মাকে নিজের খাবারের অংশ দান করেন। ব্রাহ্মণ তা দেখেও বাধা দেননি। এই একটি কাজের পুণ্যফলে মৃত্যুর পর সেই কৃপণ ব্রাহ্মণ নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে বিষ্ণুদূতদের সান্নিধ্য লাভ করেন। এর থেকে বোঝা যায়, অক্ষয় তৃতীয়ায় করা সামান্য পুণ্যকর্মও আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‎ 🌿আমাদের জীবন ও অক্ষয় তৃতীয়া🌿 ‎ ‎আমাদের বর্তমান জীবনের সুখ-দুঃখ আমাদের পূর্বজন্মের কর্মফল। অক্ষয় তৃতীয়া হলো সেই সুযোগ, যেদিন আমরা ভক্তি ও সেবার মাধ্যমে নিজেদের আগামী জীবনের পাথেয় বা অক্ষয় পুণ্য সঞ্চয় করতে পারি। এদিন কোনো সৎ সংকল্প (যেমন: গীতা পড়া বা হরিনাম করা) নিলে ভগবান তা পূর্ণ করতে সাহায্য করেন। ‎ 🌿পরিশেষে🌿 ‎ ‎অক্ষয় তৃতীয়া কেবল সোনা কেনা বা নতুন ব্যবসার শুরুর দিন নয়, এটি আত্মিক উন্নতির দিন। এদিন মনে কোনো কালিমা না রেখে ঈশ্বরের সেবায় নিযুক্ত হওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ কাজ। ‎ ‎হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। ‎হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

#অক্ষয়_তৃতীয়া #শাস্ত্রোক্ত_দান #অক্ষয়_পুণ্য #গো_সেবা #বৈষ্ণব_সেবা #জগন্নাথধাম #বৃন্দাবন #SanatanDharma #krishna #foryoupageシ #highlightsシ゚ #everyonefollowers

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ