অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১৯
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
****অর্থ: অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি নিমজ্জিত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জনের দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মুক্ত করেছেন। সেই শ্রীগুরুকে আমি প্রণাম জানাই।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম-মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
বাঞ্ছা-कल्प-তরুভ্যশ্চ কৃপা-সিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
****অর্থ: যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত আত্মাদের পরিত্রাতা—সেই সকল বৈষ্ণব ভক্তদের প্রতি আমার বারংবার প্রণাম।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।যৎ কৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবম্।।
****অর্থ: যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয় এবং পঙ্গুও পর্বত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়—সেই পরমানন্দময় মাধবকে আমি বন্দনা করি।
তপ্ত-কাঞ্চন-গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।বৃষভানু-সুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
****অর্থ: হে রাধারাণী! তপ্ত স্বর্ণের ন্যায় তোমার কান্তি। তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা এবং ভগবান হরির পরম প্রিয়া। তোমাকে আমি শ্রদ্ধাভরে প্রণাম জানাই।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
****অর্থ: হে করুণাময় কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীদের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমাকে আমার প্রণাম।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
****অর্থ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস এবং সমগ্র গৌরভক্তবৃন্দের চরণে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে 🙏
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়🙏
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
দ্বিতীয় অধ্যায়
সাংখ্যযোগ
শ্রীভগবান উবাচ
যাবানর্থ উদপানে সর্বতঃ সংপ্লুতোদকে৷
তাবানসর্বেষু বেদেষু ব্রাহ্মণস্য বিজানতঃ৷৷৪৬
অর্থ: ক্ষুদ্র জলাশয়ে যে সমস্ত কার্য সাধিত হয় সেগুলি যেমন বৃহৎ জলাশয় থেকে আপনা হতেই সাধিত হয়ে যায়, তেমনই ভগবানের উপসনার মাধ্যমে যিনি পরমব্রহ্মের জ্ঞান লাভ করে সব কিছুর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করেছেন তার কাছে সমস্ত বেদের উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে।
কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন৷
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোস্ত্বকর্মণি৷৷৪৭
অর্থ: স্বধর্ম বিহিত কর্মে তোমার অধিকার আছে কিন্তু কোন কর্মফলে তোমার অধিকার নাই। কখনো নিজেকে কর্মফলের হেতু মনে করো না এবং কখনো স্বধর্মেও আচরন থেকে বিরত হয়ো না।
যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা ধনঞ্জয়৷
সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোঃ সমো ভূত্বা সমত্বং যোগ উচ্যতে৷৷৪৮
অর্থ: হে অর্জুন, ফলভোগের কামনা পরিত্যাগ করে ভক্তি যোগস্থ্য হয়ে স্বধর্ম বিহিত কর্মাচরণ কর। কর্মের সিদ্ধি-অসিদ্ধি সম্বন্ধে যে সমস্ত বুদ্ধি তাকেই বুদ্ধিযোগ বলা হয়।
দূরেণ হ্যবরং কর্ম বুদ্ধিযোগাদ্ধনঞ্জয়৷
বুদ্ধৌ শরণমন্বিচ্ছ কৃপণাঃ ফলহেতবঃ৷৷৪৯
অর্থ: হে ধনঞ্জয়, বুদ্ধিযোগ দ্বারা ভক্তির অনুশীলন করে সকাম কর্ম থেকে দূরে থাক। যারা কর্মের ফল ভোগ করতে চায় তারা কৃপণ।
বুদ্ধিযুক্তো জহাতীহ উভে সুকৃতদুষ্কৃতে৷
তস্মাদ্যোগায় যুজ্যস্ব যোগঃ কর্মসু কৌশলম্৷৷৫০
অর্থ: যিনি ভগবত্ ভক্তির অনুশীলন করেন তিনি এই জীবনেই পাপ-পুণ্য উভয় থেকে মুক্ত হন। সুতরাং হে অর্জুন, তুমি নিস্কাম কর্মযোগের অনুশীলন কর সেটাই হল সর্বাঙ্গীণ কর্মকৌশল।

0 মন্তব্যসমূহ