Ticker

6/recent/ticker-posts

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২য় অধ্যায় ৫০ তম শ্লোক। Gita 2nd Chapter 50 th slock




 ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

দ্বিতীয় অধ্যায়

সাংখ্যযোগ 

 শ্রীভগবান উবাচ


বুদ্ধিযুক্তো জহাতীহ উভে সুকৃতদুষ্কৃতে৷

তস্মাদ্যোগায় যুজ্যস্ব যোগঃ কর্মসু কৌশলম্৷৷৫০


অর্থ:  যিনি ভগবত্ ভক্তির অনুশীলন করেন তিনি এই জীবনেই পাপ-পুণ্য উভয় থেকে মুক্ত হন। সুতরাং হে অর্জুন, তুমি নিস্কাম কর্মযোগের অনুশীলন কর সেটাই হল সর্বাঙ্গীণ কর্মকৌশল।


সংক্ষেপে এই শ্লোক থেকে আমরা যেসব শিক্ষা পাই—


১. ফলের আসক্তি ত্যাগ করা (নিষ্কাম কর্ম)


শিক্ষা: কাজ করো, কিন্তু ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ো না।


উদাহরণ: একজন ছাত্র মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, কিন্তু শুধু “প্রথম হবো” এই চিন্তায় দুশ্চিন্তা না করে শেখার উপর মন দেবে।



২. পাপ-পুণ্যের ঊর্ধ্বে ওঠা


শিক্ষা: ভক্তি ও সঠিক মনোভাব নিয়ে কাজ করলে মানুষ পাপ ও পুণ্য—দুটির বন্ধন থেকেই মুক্ত হতে পারে।


উদাহরণ: কেউ দান করলে শুধু নাম বা প্রশংসার জন্য না করে নিঃস্বার্থভাবে করলে সেটাই প্রকৃত কল্যাণকর কাজ।



৩. দক্ষতার সাথে কাজ করা (কর্মে কৌশল)


শিক্ষা: যোগ মানে শুধু ধ্যান নয়, বরং জীবনের প্রতিটি কাজ দক্ষতা ও সঠিক বুদ্ধি দিয়ে করা।


উদাহরণ: একজন ডাক্তার শুধু রোগ সারান না, তিনি সহানুভূতি ও মনোযোগ দিয়ে চিকিৎসা করলে সেটাই প্রকৃত “কর্মে কৌশল”।



৪. মানসিক শান্তি বজায় রাখা


শিক্ষা: ফল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করলে মন শান্ত থাকে এবং কাজ আরও ভালো হয়।


উদাহরণ: চাকরির ইন্টারভিউতে নিজের সেরাটা দিয়ে ফল যাই হোক শান্ত থাকা।



৫. ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও আত্মসমর্পণ


শিক্ষা: নিজের কাজকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলে জীবনে ভারসাম্য আসে।


উদাহরণ: প্রতিদিনের কাজকে “সেবা” মনে করে করা—যেমন শিক্ষক নিজের পড়ানোকে শুধু চাকরি না ভেবে দায়িত্ব হিসেবে পালন করা।



সংক্ষেপে:

এই শ্লোক আমাদের শেখায়—নিঃস্বার্থভাবে, দক্ষতার সাথে এবং ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি রেখে কাজ করাই জীবনের সর্বোত্তম পথ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ