ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
দ্বিতীয় অধ্যায়
সাংখ্যযোগ
শ্রীভগবান উবাচ
কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন৷
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোস্ত্বকর্মণি৷৷৪৭
অর্থ: স্বধর্ম বিহিত কর্মে় তোমার অধিকার আছে কিন্তু কোন কর্মফলে তোমার অধিকার নাই। কখনো নিজেকে কর্মফলের হেতু মনে করো না এবং কখনো স্বধর্মেও আচরন থেকে বিরত হয়ো না।
এই শ্লোক থেকে আমরা মূলত ৩টি শিক্ষা পাই—
১. নিজের কর্তব্য ঠিকভাবে করা (কর্মই প্রধান)
আমাদের কাজ হলো নিজের দায়িত্ব সৎভাবে পালন করা, ফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা নয়।
২. ফলের প্রতি আসক্ত না হওয়া
আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু ফল সবসময় আমাদের হাতে থাকে না—তাই ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দুঃখের কারণ।
৩. কর্ম এড়িয়ে না যাওয়া
ফল পাবো কি না ভেবে কাজ না করা ঠিক নয়। দায়িত্ব থেকে পালানো উচিত নয়।
উদাহরণ
১. ছাত্রের উদাহরণ
একজন ছাত্র পরীক্ষার জন্য মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করল।
সে যদি শুধু ভালো ফলের চিন্তায় চিন্তিত হয়, তাহলে চাপ বাড়বে।
কিন্তু যদি সে ভাবে “আমি আমার সেরা চেষ্টা করবো”, তাহলে সে শান্তভাবে পড়তে পারবে।
এখানে তার কাজ = পড়াশোনা, ফল = পরীক্ষার নম্বর।
২. কৃষকের উদাহরণ
একজন কৃষক জমিতে ফসল ফলালেন।
তিনি বীজ বপন, পানি দেওয়া—সব ঠিকমতো করলেন।
কিন্তু বৃষ্টি হবে কি না, সেটা তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
তাই তার কর্তব্য কাজ করা, ফল (ফসল) সম্পূর্ণ তার হাতে নয়।
৩. কর্মজীবনের উদাহরণ
একজন কর্মী অফিসে সৎভাবে কাজ করছে।
পদোন্নতি বা বেতন বাড়বে কি না, সেটা পুরোপুরি তার হাতে নয়।
কিন্তু নিজের কাজ ঠিকভাবে করা তার দায়িত্ব।
সারাংশ
এই শ্লোক আমাদের শেখায়—
১। “কাজে মন দাও, ফলে নয়।”
২। সৎভাবে দায়িত্ব পালন করো, কিন্তু ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নিজেকে কষ্ট দিও না।
৩। আমরা যে কাজে নিয়োজিত আছি, সেটা ফলের চিন্তা না করে নিষ্ঠার সাথে করে যেতে হবে, ফলাফল ভগবানের হাতে অর্পণ করে, তাঁর ইচ্ছায় সব হয়, আর ভগবান যা করেন ভালোর জন্যই করেন।
জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।

0 মন্তব্যসমূহ