Ticker

6/recent/ticker-posts

বরাহদেবের সঙ্গে হিরণ্যাক্ষ দৈত্যের যুদ্ধ Bhagabath




📚 শ্রীমদ্ভাগবত (৩য় স্কন্ধ, অষ্টাদশ অধ্যায়)

বরাহদেবের সঙ্গে হিরণ্যাক্ষ দৈত্যের যুদ্ধ

✧═══════•❁❁❀❁❁•═══════✧

মৈত্রেয় ঋষি বিদুরকে বললেন—

অহঙ্কারী দৈত্য হিরণ্যাক্ষ বরুণের উপদেশ মানল না। পরে নারদের কাছ থেকে ভগবানের অবস্থান জেনে সে দ্রুত রসাতলে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে, পরমেশ্বর শ্রীহরিঃ বরাহরূপে তাঁর দাঁতের আগায় পৃথিবীকে জল থেকে উদ্ধার করছেন। ভগবানের রক্তাভ চোখের দৃষ্টিতে দৈত্যের সমস্ত শক্তি লোপ পেলেও, সে উপহাস করে বলল—
“হা! এ তো একটা উভচর জন্তু!”

দৈত্য বিদ্রূপ করে ভগবানকে বলল—
“রে শূকররূপী দেবতা! এই পৃথিবী আমাদের রসাতলবাসীদেরই দান করা হয়েছে। আমার উপস্থিতিতে তুই এটা নিয়ে যেতে পারবি না। তুই আমাদের শত্রুদের দ্বারা পোষিত হয়ে গোপনে কিছু দৈত্যকে হত্যা করেছিস। আজ তোর যোগমায়া নয়, শক্তির পরীক্ষা হবে। আমার গদার আঘাতে তোর মৃত্যু হলে দেবতারা যারা তোকে পূজা করে, তারাও বিনষ্ট হবে।”

ভগবান সেই কটু বাক্য সহ্য করে পৃথিবীকে নিরাপদ স্থানে স্থাপন করলেন। ঠিক যেমন আহত হাতী হস্তিনীকে নিয়ে জলের বাইরে আসে, তেমনি বরাহদেব পৃথিবীকে রক্ষা করে জলের উপর ভাসিয়ে রাখলেন। এসময় হিরণ্যাক্ষ বজ্রধ্বনির মতো গর্জন করে ভগবানের পিছু নিল।

সে চ্যালেঞ্জ করে বলল—
“পালাচ্ছিস? নির্লজ্জ প্রাণীর জন্য কিছুই অসম্ভব নয়!”

তখন দেবতারা আকাশ থেকে ফুল বর্ষণ করলেন, ব্রহ্মা ভগবানের স্তব করলেন। হিরণ্যাক্ষ গদা নিয়ে বরাহদেবের দিকে ধেয়ে এলো। ভগবান সহ্য করলেও এবার তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতিউত্তর দিলেন—

“আমরা বনবাসী প্রাণী, তোর মতো কুকুরদের শিকার খুঁজে বেড়াই। তুই মৃত্যুর নিয়মে আবদ্ধ, তাই তোর প্রলাপ অর্থহীন। তবে তুই যদি যুদ্ধ চাস, আস! প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে না পারলে তুই সভায় বসার যোগ্য নোস।”

এরপর উভয়ের মধ্যে ভয়ঙ্কর গদাযুদ্ধ শুরু হলো। শত্রুর আঘাত বরাহদেব এড়িয়ে গেলেন, আবার তিনিও আঘাত হানলেন। একে অপরের আঘাতে দেহ রক্তাক্ত হলো, যুদ্ধক্ষেত্র উত্তপ্ত হয়ে উঠল। দুই মত্ত ষাঁড় যেমন গাভীর জন্য লড়াই করে, তেমন ভগবান ও হিরণ্যাক্ষ প্রাণপণ সংগ্রামে লিপ্ত হলেন।

এসময় ব্রহ্মা ঋষিগণসহ এসে দর্শন করলেন। তিনি দেখলেন দৈত্য অভূতপূর্ব শক্তির অধিকারী হয়ে উঠেছে। তখন ব্রহ্মা ভগবানকে প্রার্থনা করলেন—

“হে পরমেশ্বর! এই দৈত্য দেবতা, ব্রাহ্মণ, গাভী ও আপনার ভক্তদের চরম শত্রু হয়ে উঠেছে। আমার বর পাওয়ার কারণে সে দুঃসাহসী হয়েছে। কিন্তু এখন আপনার হাতে তার মৃত্যু নির্ধারিত। সন্ধ্যা আসার আগেই আপনি তাকে বধ করুন, নইলে সে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। আজ অভিজিৎ শুভ মুহূর্ত প্রায় শেষ হতে চলেছে। তাই দয়া করে এখনই একে সংহার করে দেবতাদের মুক্তি দিন এবং জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।”


📖 চলবে…

─━⊱♡ আগামী পর্বে ♡⊰━─
●●● হিরণ্যাক্ষ বধ ●●●
#sanatangeanbandar

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ