🌸 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১ ও ২ 🌸
📖 আলোচ্য বিষয়সমূহ
🌼 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ 🌼
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থঃ
অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম। আমার গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জন দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার চোখ উন্মীলিত করেছেন।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরং।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থঃ
যিনি সমগ্র জগৎজুড়ে (চরাচর) বিরাজমান, যিনি ব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করেন এবং সেই পরম পদ (ব্রহ্ম) দর্শন করান— সেই গুরুকে আমি প্রণাম জানাই।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্।।
অর্থঃ
যাঁর কৃপায় বোবা কথা বলতে পারে, পঙ্গু ব্যক্তি পর্বত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়— সেই পরমানন্দ মাধবকে আমি বন্দনা করি।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
অর্থঃ
হে করুণাময় কৃষ্ণ! তুমি দীনদের বন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু এবং গোপীগণের হৃদয়নাথ। হে রাধাকান্ত, তোমার চরণে আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানুসুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
অর্থঃ
হে শ্রীমতী রাধারাণী! তোমার দেহকান্তি তপ্ত স্বর্ণের ন্যায়, তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, মহারাজ বৃষভানুর কন্যা ও ভগবান হরির প্রিয়তমা। তোমার চরণে আমি প্রণতি নিবেদন করি।
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
অর্থঃ
যে সকল বৈষ্ণবভক্ত বৃন্দ আমাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন, করুণার সাগর এবং পতিতদের মুক্তিদাতা— তাঁদের চরণে আমি বারবার প্রণাম জানাই।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
অর্থঃ
আমি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু, শ্রীনিত্যানন্দ, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, শ্রীগদাধর, শ্রীবাস ও গৌরভক্তবৃন্দের চরণে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করছি।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
🕉 পর্ব ১-এর আলোচ্য বিষয়সমূহ
১. আমি কে? আমি কেন এই জগতে জন্মগ্রহণ করেছি?
মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ।
মনঃষষ্ঠানীন্দ্রিয়াণি প্রকৃতিস্থানি কর্ষতি।। (৭)
অর্থঃ
এই জড় জগতে বদ্ধ জীবসমূহ আমার সনাতন অংশবিশেষ। জড় প্রকৃতির বন্ধনে আবদ্ধ
হয়ে তারা মন ও ছয়টি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রকৃতির রূপক্ষেত্রে কঠোর সংগ্রাম
করছে।
২. আমাদের প্রকৃত কর্তব্য কী? মৃত্যুর পর গন্তব্য কোথায়?
যং যং বাপি স্মরন্ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্৷
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ৷৷৬
অর্থ: মৃত্যুর সময় যিনি যে ভাবে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেইভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।
অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্ত্বা কলেবরম্৷
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ৷৷৫
অর্থ: মৃত্যুর সময় যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
ন তদ্ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ৷
যদ্গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম৷৷৬
অর্থ: আমার সেই পরম ধাম চন্দ্রসূর্য্য অথবা বিদ্যুৎ আলোকিত করতে পারে না। সেখানে গেলে এই জড়জগতে আর ফিরে আসতে হয় না।
অনেকচিত্তবিভ্রান্তা মোহজালসমাবৃতাঃ৷
প্রসক্তাঃ কামভোগেষু পতন্তি নরকেশুচৌ৷৷১৬॥
অর্থ: নানা প্রকার দুঃশ্চিন্তায় বিভ্রান্ত হয়ে এবং মোহজালে বিজড়িত হয়ে কামভোগে আসক্ত চিত্ত অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা অশুচি নরকে পতিত হয়।
৩. মানুষ ও অন্যান্য জীবের মধ্যে পার্থক্য।মানুষ কেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব?

৫. ভগবান কে এবং তিনি কেন ‘ভগবান’ নামে পরিচিত?
"ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্ গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।"
অর্থাৎ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর—তিনি সচ্চিদানন্দময়, যার কোনো আদিও নেই, তিনিই সকল কিছুর মূল কারণ, সর্বকারণের পরম কারণ।
চৈতন্যচরিতামৃত-এ বলা হয়েছে, “একলা ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য।”
অর্থাৎ, একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই স্বয়ং ঈশ্বর, বাকি সকলেই তাঁর দাস।
আবার শ্রীমদ্ভাগবত বলে— “কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্” —
অর্থাৎ, শ্রীকৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান।
মহর্ষি পরাশর ভগবানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন—
যার মধ্যে সমগ্র ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, সৌন্দর্য, জ্ঞান, শক্তি ও বৈরাগ্য সম্পূর্ণরূপে বিদ্যমান, তিনিই ভগবান।
সুতরাং, একমাত্র শ্রীকৃষ্ণের মধ্যেই সবকিছু পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান।
মত্তঃ পরতরং নান্যত্কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।। (৭)
অর্থঃ
হে অর্জুন, আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। যেমন সূত্রে মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্ব আমার মধ্যেই ওতপ্রোতভাবে অবস্থান করে।
৬. মানবজীবনের উদ্দেশ্য কী?
৭। গুরুদেব, দেবতা ও ভগবানের মধ্যে পার্থক্য
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া৷
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ৷৷৩৪
অর্থ:
সদগুরু শরণাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাকে সন্তুষ্ট কর তা হলে সেই
তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষ তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবে।
ন তদস্তি পৃথিব্যাং বা দিবি দেবেষু বা পুনঃ৷
সত্ত্বং প্রকৃতিজৈর্মুক্তং যদেভিঃ স্যাত্ত্রিভির্গুণৈঃ৷৷৪০
অর্থ: এই পৃথিবীতে মানুষদের মধ্যে অথবা স্বর্গের দেবতাদের মধ্যে এমন কোন জীব নেই যে প্রকৃতির গুণ থেকে মুক্ত।
স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে৷
লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্৷৷২২
অর্থ: সেই ভক্ত শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু লাভ করেন।
অন্তবত্তু ফলং তেষাং তদ্ভবত্যল্পমেধসাম্৷
দেবান্দেবযজো যান্তি মদ্ভক্তা যান্তি মামপি৷৷২৩
অর্থ: অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের আরাধনার লব্ধ ফল অস্থায়ী। দেবতাদের উপাসকেরা তাদের আরাধ্য দেবতাদের লোক প্রাপ্ত হন, কিন্তু আমার ভক্তরা আমার পরম ধাম প্রাপ্ত হন।
অব্যক্তং ব্যক্তিমাপন্নং মন্যন্তে মামবুধ্দয়ঃ৷
পরং ভাবমজানন্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্৷৷ ২৪
অর্থ: বুদ্ধিহীন মানুষেরা যারা আমাকে জানেনা, মনে করে যে আমি এই রুপ এবং ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ করেছি। তাদের অজ্ঞতার ফলে তারা আমার নিত্য, অব্যয়, পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত নয়।
মত্তঃ পরতরং নান্যত্কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।। (৭)
অর্থঃ
হে অর্জুন, আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। যেমন সূত্রে মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্ব আমার মধ্যেই ওতপ্রোতভাবে অবস্থান করে।
৮. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কী?
– বেদ সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থ হলেও কেন গীতা এত গুরুত্বপূর্ণ?
সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ।
পার্থো বৎসঃ সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।। (৪)
অর্থঃ
উপনিষদসমূহ
গাভীস্বরূপ, গোপালনন্দন শ্রীকৃষ্ণ সেই দোহনকারী, অর্জুন বৎস (বাছুর), আর
গীতার অমৃতবাণী উৎকৃষ্ট দুধসদৃশ — যা পণ্ডিতগণ পান কর।
সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো
মত্তঃ স্মৃতির্জ্ঞানমপোহনং চ৷
বেদৈশ্চ সর্বৈরহমেব বেদ্যো
বেদান্তকৃদ্বেদবিদেব চাহম্৷৷১৫
অর্থ: আমি সকলের হৃদয়ে অবস্থিত আছি এবং আমার থেকেই জীবের স্মৃতি এবং জ্ঞান উৎপন্ন ও বিলোপ হয়। আমি সমস্ত বেদের জ্ঞাতব্য, সমস্ত বেদান্ত কর্তা এবং বেদবেত্তা।
৭। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কী?বেদ সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থ হলেও কেন গীতা এত গুরুত্বপূর্ণ?
পিতাহমস্য জগতো মাতা ধাতা পিতামহঃ৷
বেদ্যং পবিত্রমোংকার ঋক্ সাম যজুরেব চ৷৷১৭
অর্থ: আমিই জগতের পিতামাতা, সর্ব প্রাণীর কর্মফল প্রাণদাতা এবং পিতামহ, ঋক, সাম এবং যজুঃ (বেদসমূহ)।
সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ।
পার্থো বৎসঃ সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।। (৪)
অর্থঃ
উপনিষদসমূহ
গাভীস্বরূপ, গোপালনন্দন শ্রীকৃষ্ণ সেই দোহনকারী, অর্জুন বৎস (বাছুর), আর
গীতার অমৃতবাণী উৎকৃষ্ট দুধসদৃশ — যা পণ্ডিতগণ পান কর।
সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো
মত্তঃ স্মৃতির্জ্ঞানমপোহনং চ৷
বেদৈশ্চ সর্বৈরহমেব বেদ্যো
বেদান্তকৃদ্বেদবিদেব চাহম্৷৷১৫
অর্থ: আমি সকলের হৃদয়ে অবস্থিত আছি এবং আমার থেকেই জীবের স্মৃতি এবং জ্ঞান উৎপন্ন ও বিলোপ হয়। আমি সমস্ত বেদের জ্ঞাতব্য, সমস্ত বেদান্ত কর্তা এবং বেদবেত্তা।
🌿 পর্ব ২-এর আলোচ্য বিষয়সমূহ
১. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উৎপত্তি।
চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ
২. দেহকে রথের সঙ্গে তুলনা – “দেহরথ তত্ত্ব” ব্যাখ্যা।
দেহ=রথ
দুপা= রথের ২টি চাকা
পঞ্চইন্দিয় =৫টি ঘোড়া
মন= রশি
অর্জুন=আত্মা
সারথি=পরমাত্মা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
৩. গীতার ৫টি মুখ্য আলোচ্য বিষয়।
১। ভগবান
২। আত্মা
৩। জড় জগৎ
৪।কর্ম
৫। কাল
৪. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সংস্কৃত উচ্চারণের নিয়মাবলি।

৫. গীতা পাঠ সংক্রান্ত কিছু ভ্রান্ত ধারণার নিরসনঃ
- জননা বা মরণাশৌচে কি গীতাপাঠ করা যায়?
- মৃত্যুকালে বুকে গীতা রাখা বা পাঠ করা যায় কি?
- শ্রাদ্ধে গীতাপাঠ করা কি শাস্ত্রসম্মত?
- শুদ্ধ উচ্চারণে পাঠ না পারলে কি অপরাধ হবে?
- গীতা লাল কাপড়ে মুড়ে বছরের পর বছর রেখে দেওয়া কি উচিত?
- যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তত্৷
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্৷৷৫
অর্থ: যজ্ঞ, দান, তপস্যা কখনো ত্যাগ করা উচিত নয়। যজ্ঞ, দান এবং তপস্যা মনীষীদের পর্যন্ত পবিত্র করে।
অধর্মং ধর্মমিতি যা মন্যতে তমসাবৃতা৷
সর্বার্থান্বিপরীতাংশ্চ বুদ্ধিঃ সা পার্থ তামসী৷৷৩২
অর্থ: হে পার্থ, যে বুদ্ধি অজ্ঞান এবং মোহাচ্ছন্ন হয়, অধর্মকে ধর্ম বলে মনে করে এবং ধর্মকে অধর্ম বলে মনে করে এবং সব কিছুই বিপরীত ভাবে বোঝেন, তা তামসী বুদ্ধি বলে জানবে। - মানব জীবনে ধর্মীয় শিক্ষা তথা গীতা শিক্ষার গুরুত্ব
🪔 “গীতা পাঠ মানে শুধু জ্ঞান নয়, এটি আত্মার জাগরণ।”
🙏 জয় গীতা 🙏 জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏

0 মন্তব্যসমূহ