Ticker

6/recent/ticker-posts

লক্ষ্মীদেবী কে? Joy Ma Laksmi

 লক্ষ্মীদেবী কে? Joy Ma Laksmi

🌸 লক্ষ্মীদেবী কে?

সনাতন শাস্ত্র অনুসারে, লক্ষ্মীদেবী হলেন পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের প্রকাশভূত ভগবান শ্রীবিষ্ণু (নারায়ণ)-এর নিত্য পত্নী। তিনি পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের মন থেকে আবির্ভূত হয়ে, তাঁর আজ্ঞায় বৈকুণ্ঠধামে ভগবান নারায়ণের প্রিয়তমা মহালক্ষ্মীরূপে সর্বদা প্রেমময় সেবায় নিযুক্ত থাকেন।
পুনরায়, সেই মহালক্ষ্মী জড়জগতের স্বর্গলোকে স্বর্গলক্ষ্মী, এবং মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) গৃহে গৃহে গৃহলক্ষ্মীরূপে পূজিতা হন।

যেখানে যেখানে শ্রীনারায়ণ (বিষ্ণু) বিদ্যমান, সেখানেই লক্ষ্মীদেবীও অবস্থান করেন। কিন্তু যেখানে নারায়ণ নেই, সেখানে লক্ষ্মীদেবীর উপস্থিতি কখনো সম্ভব নয়। অতএব, নারায়ণ থেকে পৃথকভাবে লক্ষ্মীদেবীর পূজা করা উচিত নয়।
প্রত্যেক সনাতন ধর্মানুসারীর কর্তব্য— প্রতিদিন গৃহে শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ বা শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ যুগলচিত্রে পুষ্প, চন্দন, তুলসী, নৈবেদ্য, ধূপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণ দ্বারা পূজা করা।
অথবা সদাচারী ব্রাহ্মণ দ্বারা যুগল লক্ষ্মীনারায়ণ চিত্রপটে ঘট স্থাপন করে পূজা সম্পন্ন করা শ্রেয়। তুলসীপত্র শুধুমাত্র শ্রীবিষ্ণুর চরণে নিবেদনযোগ্য, কখনোই লক্ষ্মীদেবীর চরণে নিবেদন করা উচিত নয়।


---

🌼 লক্ষ্মীদেবীর আবির্ভাব

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের (ব্রহ্মখণ্ড, অধ্যায় ২–৩, শ্লোক ১–৬৩) বর্ণনা অনুসারে, চিন্ময় জগতের সর্বোচ্চ লোক হল গোলক ধাম। তার নিচে রয়েছে বৈকুণ্ঠলোক, এবং বৈকুণ্ঠের নিম্নদিকে বাম পাশে শিবলোক অবস্থিত।
এই তিনটি— গোলক বৃন্দাবন, বৈকুণ্ঠ ও শিবলোক— মিলে চিন্ময় জগত নামে পরিচিত।

গোলক বৃন্দাবনের রত্নসিংহাসনে অধিষ্ঠিত আছেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তিনি দ্বিভুজ, মুরলীধর, শ্যামবর্ণ, শোভিত বনমালা ও রত্নালঙ্কারে অলঙ্কৃত।

শ্রীকৃষ্ণের—

দক্ষিণ অঙ্গ থেকে আবির্ভূত হন চতুর্ভুজ নারায়ণ,

বাম অঙ্গ থেকে শ্রীশিব,

নাভিপদ্ম থেকে শ্রীব্রহ্মা,

বক্ষ থেকে ধর্মদেব,

এবং মুখ থেকে স্বরস্বতী দেবী।


এরপর, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (ব্রহ্মখণ্ড ৩/৬৪–৬৮) অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের মন থেকে লক্ষ্মীদেবী আবির্ভূত হন।


---

📜 শাস্ত্রীয় বর্ণনা (মূল শ্লোকসমূহ):

সৌতিরুবাচঃ

> আবির্ভূব মনসঃ কৃষ্ণস্য পরমাত্মনঃ।
একা দেবী গৌরবর্ণা রত্নালঙ্কারভূষিতা ॥ ৬৪ ॥
পীতবস্ত্রপরীধানা সস্মিতা নবযৌবনা।
সর্ব্বৈশ্বর্য্যাধিদেবী সা সর্ব্বসম্পৎফলপ্রদা ॥ ৬৫ ॥
স্বর্গেষু স্বর্গলক্ষ্মীশ্চ রাজলক্ষ্মীশ্চ রাজসু।
সা হরেঃ পুরতঃ স্থিত্বা পরমাত্মানমীশ্বরম্।
তুষ্টাব প্রণতা সাধ্বী ভক্তিনম্রাত্মকন্ধরা ॥ ৬৬ ॥



মহালক্ষ্মীরুবাচঃ

> সত্যস্বরূপং সত্যেশং সত্যবীজং সনাতনম্।
সত্যাধারঞ্চ সত্যয়ং সত্যমূলং নমাম্যহম্ ॥ ৬৭ ॥
ইত্যুক্ত্বা শ্রীহরিং নত্বা সা চোবাস সুখাসনে।
তপ্তাকাঞ্চনবর্ণাভা ভাসয়ন্তী দিশস্তিষা ॥ ৬৮ ॥



— (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণঃ ব্রহ্মখণ্ড ৩/৬৪–৬৮)



🌷 অনুবাদঃ

সৌতি মুনি বলেন—
পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের মন থেকে রত্নালঙ্কার ভূষিতা, গৌরবর্ণা, নবযৌবনা, পীতবস্ত্র পরিহিতা এক দেবী আবির্ভূত হলেন। তিনি সকল ঐশ্বর্যের অধিষ্ঠাত্রী, সকল সম্পদের দাত্রী। স্বর্গে তিনি স্বর্গলক্ষ্মী, রাজগৃহে রাজলক্ষ্মী নামে পরিচিত।

সেই সাধ্বী মহালক্ষ্মী, ভক্তি ও বিনয়ের সঙ্গে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে স্তব করলেন—
“যিনি সত্যস্বরূপ, সত্যের ঈশ্বর, সত্যের উৎস ও আশ্রয়— সেই চিরসত্য পরমাত্মাকে আমি প্রণাম করি।”

এরপর তিনি শ্রীহরিকে প্রণাম করে, তপ্ত স্বর্ণসম দেহকান্তি দিয়ে দশদিক আলোকিত করে, আনন্দভরে সুখাসনে উপবেশন করলেন।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ