Ticker

6/recent/ticker-posts

The rules and importance of fasting in the month of Damodar

 

The rules and importance of fasting in the month of Damodar

🌼 দামোদর মাসে ব্রত পালনের বিধি ও মাহাত্ম্য 🌼

🔶 দামোদর মাসের মাহাত্ম্য 🔶

১. পৃথিবীর যে কোনও দেশে কার্তিক মাসে স্নান, দান ও পূজা করা অগ্নিহোত্র যজ্ঞের সমান ফল প্রদান করে।
২. কুরুক্ষেত্রে এর ফল কোটি গুণ, গঙ্গাতেও সেই ফল হয়; কিন্তু পুষ্করে ও দ্বারকায় আরও অধিক। কার্তিক মাসে স্নান ও শ্রীভগবানের পূজা শ্রীকৃষ্ণসালোক্য প্রদান করে।
৩. মথুরা ব্যতীত অন্য কোনো পুরী সেই তুলনায় নয়, কারণ মথুরা মণ্ডলেই শ্রীহরির দামোদর লীলা প্রকাশিত হয়েছিল।
৪. অতএব কার্তিক মাসে মথুরায় শ্রীগোবিন্দের সেবা করলে চরম ফল প্রাপ্ত হয়।
৫. যেমন মাঘ মাসে প্রয়াগ, বৈশাখে গঙ্গাস্নান শ্রেষ্ঠ — তেমনি কার্তিকে মথুরাসেবা সর্বোত্তম।
৬. কার্তিক মাসে মথুরায় স্নান ও দামোদরের পূজা করলে ভক্তরা কৃষ্ণসারূপ্য প্রাপ্ত হন — এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
৭. মথুরায় কার্তিক মাস পালন মানবজীবনে বিরল সৌভাগ্য; এখানে পূজিত হয়ে স্বয়ং দামোদর ভক্তদের নিজরূপ প্রদান করেন।
৮. শ্রীহরি সর্বত্র ভক্তদের ভুক্তি-মুক্তি দেন, কিন্তু কার্তিক মাসে ভক্তি দান করেন — কারণ তিনি নিজেই ভক্তির বশীভূত।
৯. মথুরা-মণ্ডলে একবারও শ্রীদামোদরের পূজা করলে ভক্ত অনায়াসে ভগবানের কৃপা লাভ করেন।
১০. কার্তিক মাসে শ্রীদামোদর এমনকি মন্ত্রহীন বা দ্রব্যহীন পূজাও আনন্দভরে গ্রহণ করেন।
১১. যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত মৃত্যুর পরেও সম্ভব নয়, সেই পাপও মথুরায় কার্তিক মাসে হরিপূজায় নাশ হয়।
১২. বালক ধ্রুবও কার্তিক মাসে মথুরায় দামোদর পূজার মাধ্যমে শ্রীভগবানের দর্শন লাভ করেছিলেন।
১৩. যজ্ঞ, তপস্যা বা অন্য তীর্থযাত্রার প্রয়োজন নেই — যদি কার্তিকে মথুরায় শ্রীরাধিকার প্রিয় দামোদর পূজিত হন।
১৪. কার্তিক মাসে সমস্ত পবিত্র তীর্থ, নদী ও সরোবর মথুরা-মণ্ডলে অবস্থান করে।
১৫. কার্তিকে কেশবদেবের জন্মস্থানে প্রবেশ করলেই মানুষ পরম অব্যয় শ্রীকৃষ্ণপ্রাপ্ত হয়।
১৬. কার্তিক মাসে ভক্তি সহকারে হরিপূজা করলে দুর্লভ মুক্তি-ফল লাভ হয়।


---

🚫 কার্তিক মাসে বর্জনীয় দ্রব্য ও আচরণ 🚫

পদ্মপুরাণে ব্রহ্ম-নারদ সংলাপে বলা হয়েছে—

১. রাজমাষ (বরবটি) ও শিম জাতীয় শস্য ভক্ষণে কল্পকালব্যাপী নরকবাস।
২. কলমী শাক, পটল, বেগুন ও আচার (চাটনি) ত্যাগ না করলে একই ফল হয়।
৩. মাছ-মাংস ভক্ষণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
৪. পরান্ন, পরশয্যা, পরধন ও পরস্ত্রী পরিহার করা কর্তব্য।
৫. তৈলমর্দন, আরামদায়ক শয্যা, পরান্ন ও কাসার পাত্রে ভোজন পরিহার করলে ব্রত সম্পূর্ণ হয়।
৬. কার্তিকে পরান্ন দর্শন বর্জন করলে প্রতিদিন কৃচ্ছ্রব্রতের ফল পাওয়া যায়।
৭. তৈল, মধু, কাসার পাত্র, বাসি ও অম্ল দ্রব্য, আচার ইত্যাদি বর্জনীয়।
৮. মাছ, কচ্ছপ, মাংস এমনকি ঔষধরূপেও গ্রহণ করা যাবে না; তা করলে চণ্ডালত্ব প্রাপ্ত হয়।


---

🕉 কার্তিক-কৃত্য-বিধি (ব্রত পালনের নিয়ম) 🕉

১. আশ্বিন মাসের শুক্লা একাদশী বা পূর্ণিমা থেকে কার্তিক ব্রত আরম্ভ করতে হবে।
২. প্রতিদিন প্রাতঃকালে শুচি হয়ে ভগবানের জাগরণ ও আরতি করতে হবে।
৩. বৈষ্ণববৃন্দসহ আনন্দে হরিনাম, গীত ও স্তোত্র পাঠ করতে হবে।
৪. নদী বা পুকুরে আচমনপূর্বক সংকল্প করে প্রভুকে অর্ঘ্য দিতে হবে।
৫. সংকল্প মন্ত্র:
“হে জনার্দন, হে দেবেশ, হে দামোদর! শ্রীরাধিকাসহ তোমার প্রীতির জন্য কার্তিকে আমি প্রাতঃস্নান করব।”
৬. প্রার্থনা মন্ত্র:
“হে দেবেশ! তোমার ধ্যানসহ এই জলে আমি স্নান করতে উদ্যত; তোমার কৃপায় আমার পাপ বিনাশ হোক।”
৭. অর্ঘ্য মন্ত্র:
“হে দামোদর! হে দনুজেন্দ্রনিসূদন! আমি কার্তিক মাসে স্নান করে যে অর্ঘ্য প্রদান করছি, তা গ্রহণ কর।”
৮. স্নান শেষে তিলক ধারণ, হরিনাম জপ ও সন্ধ্যা উপাসনা করা কর্তব্য।
৯. দেবমন্দির পরিষ্কার করে তুলসী, পদ্ম, মালতী, অগস্ত ফুল দ্বারা প্রভুকে পূজা করতে হবে।
১০. তিল বা ঘৃত দীপ জ্বালিয়ে দিনরাত্রি প্রভুর আরাধনা করতে হবে।
১১. প্রতিদিন দামোদরাষ্টকম পাঠ, নৈবেদ্য অর্পণ, অষ্টোত্তর শত প্রণাম ও সংযমপূর্বক একবার আহার করতে হবে।


---

🌺 শ্রীরাধা-দামোদর পূজার বিশেষ বিধান 🌺

১. কার্তিক মাসে শ্রীরাধিকার সন্তুষ্টির জন্য শ্রীদামোদরের সঙ্গে পূজা করতে হবে।
২. ব্রজবাসী ব্রাহ্মণ ও তাঁদের পত্নীদের বস্ত্র, অলঙ্কার ও ভোজনাদিতে দান করতে হবে।
৩. যিনি শ্রীরাধিকার মূর্তি বা প্রতিমাকে পূজা করেন, তাঁর প্রতি শ্রীদামোদর হরি তুষ্ট হন।
৪. প্রতিদিন ‘দামোদরাষ্টকম্’ পাঠ অবশ্যই করতে হবে — এটি শ্রীদামোদরের আকর্ষণকারী স্তোত্র।


---

🪔 দীপদান ও আকাশদীপের মহিমা 🪔

স্কন্দপুরাণে উল্লেখ আছে — দ্রাবিড়দেশে বুদ্ধ নামে এক ব্রাহ্মণের পত্নী দুষ্টাচারে লিপ্ত ছিলেন। পরে এক তীর্থযাত্রী ব্রাহ্মণ কুৎস তাঁর কাছে গিয়ে উপদেশ দেন —
“হে নারী, অনিত্য শরীর নিয়ে অহংকার ত্যাগ কর। এখন কার্তিক মাস আগত, তুমি স্নান, দান ও দীপদান করে শ্রীবিষ্ণুকে পূজা কর। এতে তোমার সমস্ত পাপ নাশ হবে।”

ঐ নারী ব্রাহ্মণের উপদেশে অনুতপ্ত হয়ে কার্তিক মাসে নিষ্ঠাভরে প্রতিদিন স্নান, পূজা ও দীপদান করেন। জীবনের শেষে তিনি স্বর্গলোকে গমন করে মুক্তিলাভ করেন।

ব্রহ্মা বলেছেন —
যিনি কার্তিক মাসে ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান করে আকাশদীপ দান করেন, তিনি পরম মোক্ষ লাভ করেন।
অতএব এই মাসে স্নান, দান ও ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে দীপদান করা সকলের কর্তব্য।


---

🌿 মহারাজ সুনন্দ চন্দ্রশর্মার উদাহরণ 🌿

মহারাজ সুনন্দ চন্দ্রশর্মা নামক ব্রাহ্মণ পরম ভক্তিভরে কার্তিক ব্রত পালন করেছিলেন।
তিনি প্রতিদিন প্রাতঃস্নান করে কোমল তুলসীদল দ্বারা ভগবান বিষ্ণুর পূজা ও রাত্রিতে আকাশদীপ দিতেন।
দীপ দানের সময় তিনি এই মন্ত্র পাঠ করতেন—

দামোদরায় বিশ্বায় বিশ্বরূপধরায় চ।
নমস্কৃত্যা প্রদাস্যামি ব্যোমদীপং হরিপ্রিয়ম্॥

।।। হরে কৃষ্ণ ।।।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ