Ticker

6/recent/ticker-posts

সনাতন ধর্ম মতে ভূমিকম্প : একটি ত্রিতাপ ক্লেশ

 

সনাতন ধর্ম মতে ভূমিকম্প : একটি ত্রিতাপ ক্লেশ

সনাতন ধর্ম মতে ভূমিকম্প : একটি ত্রিতাপ ক্লেশ

মানুষের জীবনে সুখ–দুঃখ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সুখ এলে দুঃখ আসে, আবার দুঃখের পরেই সুখ আসে—ঋতু পরিবর্তনের মতো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (২/১৪)-তে এ কথাই বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই জগতে স্থায়ী সুখ নেই; এখানে দুঃখই প্রধান (দুঃখালয়মশাশ্বতম্—গীতা ৮/১৫)। সাময়িক দুঃখের নিবৃতিকেই আমরা ‘সুখ’ বলে মনে করি।

বৈদিক শাস্ত্রে দুঃখ বা ক্লেশকে তিন ভাগে বর্ণনা করা হয়েছে—

১) আধ্যাত্মিক ক্লেশ (দেহ-মনজনিত দুঃখ)
২) আধিভৌতিক ক্লেশ (অন্যান্য জীব বা প্রাণীর কারণে দুঃখ)
৩) আধিদৈবিক ক্লেশ (প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দুঃখ)

আধ্যাত্মিক ক্লেশ হলো দেহ ও মনের ব্যাধিজনিত কষ্ট—রোগ, জরা, মানসিক যন্ত্রণা ইত্যাদি। বিজ্ঞানীরা এ দুর্ভোগ দূর করতে বহু চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না; বরং নানা সমস্যা দিন দিন বাড়ছেই।

আধিভৌতিক ক্লেশ আসে অন্যান্য জীব থেকে—জীবাণুর আক্রমণ, সর্পদংশন, মানুষের শত্রুতা কিংবা মশা-মাছির কারণে প্রাণসংশয় ইত্যাদি।

আধিদৈবিক ক্লেশ হলো দেবতাসৃষ্ট বা প্রকৃতির অতিপ্রাকৃতিক শক্তির কারণে সৃষ্ট দুঃখ—ভূমিকম্প, টর্নেডো, সাইক্লোন, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত, অগ্ন্যুত্পাত, সুনামি, বন্যা, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, অতি গরম ইত্যাদি। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবনে গভীর কষ্ট ও ভয়ের সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থামানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে ভূমিকম্প একটি আধিদৈবিক ক্লেশ, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময় হতে পারে।


বৈদিক শাস্ত্রে ভূমিকম্প

অথর্ববেদ (১৯/১/১০/৮)-এ বলা হয়েছে—

“কম্পমানা পৃথিবী আমাদের শান্তি দিক; উল্কাপাতে দগ্ধ যা কিছু আছে, তা মঙ্গলময় হোক; লোহিতক্ষীরা গাভীগণ দোষনিবারিকা হোক; (ভূমিকম্পে) বিদীর্ণ পৃথিবী যেন মঙ্গলজনক হয়।”

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পৃথিবীতে ভূমিকম্প ঘটে এবং তার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

যজুর্বেদ (৮/২৮/১)-এ সমুদ্রের কম্পন বা সামুদ্রিক ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ঋকবেদ (৯/৬২/২৬)-এ চন্দ্রের প্রভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায়—
“হে চন্দ্র! তুমি শ্রেষ্ঠ; তুমি পৃথিবীকে কাঁপাও এবং আমাদের স্তব গ্রহণ করে আকাশ হতে বারি বর্ষণ করো।”


দুঃখের কারণ ও নিবারণের পথ

শাস্ত্র মতে, আমরা যখন পাপকর্ম বা প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করি তখন তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন দুঃখ ভোগ করি। এই ত্রিতাপ দুঃখ দূর করার প্রকৃত উপায় কোনো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নয়; প্রয়োজন আধ্যাত্মিক সমাধান।

ভগবদ্গীতা আমাদের শিখিয়েছে—
কীভাবে দুঃখ সহ্য করতে হয়, কীভাবে তার থেকে মুক্তি লাভ করা যায়, এবং জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়।

তাই—
ভগবানের সেবা, নামজপ, আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড ও সৎকর্ম আমাদের জীবনের ত্রিতাপ দুঃখ কমিয়ে আনে।

যেহেতু যেকোনো সময় এই মায়াজগত ত্যাগ করতে হতে পারে, তাই—
নিত্য কৃষ্ণনাম জপ করুন, নাম প্রচার করুন, সৎকর্ম করুন।

হরে কৃষ্ণ 🌿🌺

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ