শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোকে মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পারমার্থিক তত্ত্বজিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১:-আমি কে?
উত্তর: সচ্চিদানন্দময় আত্মা। প্রশ্ন ২:- সচ্চিদানন্দময় অর্থ কি?
উত্তর: সৎ অর্থ নিত্য, চিৎ, অর্থ জ্ঞানময়, আনন্দ অর্থ দিব্যানন্দ।
প্রশ্ন ৩ :- আত্মা কার অংশ? উত্তর: পরমাত্মার অংশ। প্রশ্ন ৪:- পরমাত্মা কে?
উত্তর: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
প্রশ্ন ৫:- ভগবান কাকে বলে?
উত্তর: ষড়ৈশ্বর্য্য যার মধ্যে পূর্ণরূপে বিদ্যমান তিনিই ভগবান । প্রশ্ন ৬ :- ষড়ৈশ্বর্য্য কি?
উত্তর: ষড়ৈশ্বর্য্য হল-ক) সমস্ত ঐশ্বর্য্য খ) সমস্ত বীর্য গ) সমস্ত যশ খ সমস্ত জ্ঞান ও) সমস্ত বৈরাগ্য।
প্রশ্ন ৭ :- ভগবান কে?
উত্তর: শ্রীকৃষ্ণ ।
প্রশ্ন ৮:- ভগবান কেথায় থাকেন?
উত্তর: ভগবান তাঁর স্বরুপে গোলক বৃন্দাবনে থাকেন। এবং পরমাত্মারূপে সমস্ত জীব তথা সব জায়গায় বিরাজমান।
প্রশ্ন ৯ :- আমাদের প্রকৃত আলয় কোনটি?
উত্তর: আমাদের প্রকৃত আলয় হচ্ছে গোলক বৃন্দাবন।
প্রশ্ন ১০ :- আমাদের কেন এখানে আসতে হয়েছে?
উত্তর: গোলক বৃন্দাবনে ভগবানের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে নিজেরা পৃথক ভাবে ভোগ করার জন্য এখানে এসেছি। প্রশ্ন ১১:- এ জগৎটি কি?
উত্তর:এ জগৎটি একটি দুর্গ বা কারাগার স্বরূপ ।
প্রশ্ন ১২:- এই দুর্গ বা কারাগার স্বরুপ জগৎটির পরিচালনার দায়িত্ব কার
হাতে ন্যস্ত?
উত্তর: দুর্গা তথা মহামায়ার উপর।
প্রশ্ন ১৩ :- মহামায়া কিভাবে এ জগৎকে পরিচালনা করছেন?
উত্তর: ত্রিগুণের রশি দিয়ে বেঁধে মহামায়া এ জগৎকে পরিচালনা করছে। প্রশ্ন ১৪ :- ত্রিগুণ কি কি?
উত্তর: সত্ত্ব, রজো, তম ।
প্রশ্ন ১৫:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগৎ পরিচালনার দায়িত্ব মহামায়াকে কেন দিয়েছেন?
উত্তর: কারণ আমরা ভগবানের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে ভগবানকে ভুলে
গেছি।
প্রশ্ন ১৬:- মহামায়ার কাজ কি?
উত্তর: জীবকে এই জগতে মায়ার দ্বারা মোহিত করে ত্রিতাপ ক্লেশ প্রদান
করা যতক্ষণ না পর্যন্ত জীব ভগবানের শরণাগত হচ্ছে। প্রশ্ন ১৭ :- ত্রিতাপ ক্লেশ কি কি?
উত্তর: ক) আধ্যাত্মিক ক্লেশ-মনের অশান্তি, রোগ ব্যধি ইত্যাদি। খ) আদিভৌতিক ক্লেশ-জগতের কোন বস্তু থেকে প্রাপ্ত ক্লেশ। গ) আধিদৈবিক ক্লেশ-দেবতা থেকে প্রাপ্ত ক্লেশ। যেমন: গরম, ঠান্ডা
ইত্যাদি।
প্রশ্ন ১৮ :- মায়ার বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?
উত্তর: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়া।
প্রশ্ন ১৯ :- মুক্তি লাভের পর আমরা কোথায় যাব?
উত্তর: গোলক বৃন্দাবনে।
প্রশ্ন ১০:- ভগবানতো প্রেমময় তবে তিনি
দেন?
উত্তর: কারণ আমরা ভগবানে কথা অনু । যত কাজ করি। ফলে আমাদের যার যার কর্মফল ভোগ করতে হয়। প্রশ্ন ২১:- কর্মফল কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: কর্মফল তিন প্রকার। যথা-
ক)
উত্তর শারিরিক কর্মফল ) মানসিক) বাকি কর্মফল। প্রশ্ন ২২:- কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তির উপায় কি?
জন্য কর্ম করতে হবে।
প্রশ্ন ২৩:- কত জন্মের পর আমরা মানব জন্ম পেয়েছি উত্তর: চুরাশি লক্ষ জীব যৌনি ভ্রমন করে আমরা মানব জন্ম পেয়েছি। প্রশ্ন ২৪:-চুরাশি লক্ষ জীব যৌনির মধ্যে কোন যৌনি কত প্রকার? উত্তর: ৯ পক্ষ জলচর, ১০ লক্ষ পাখি, ১১ লক্ষ ক্রীমিকীট, ২০ লক্ষ উদ্ভিদ, ৩০ লক্ষ পশু ও ৪ লক্ষ মানুষ।
প্রশ্ন ২৫:- চুরাশি লক্ষ প্রকার জীবের মধ্যে কোন চারটি বিষয় মিল রয়েছে?
উত্তরঃ ক) আহার খ) নিদ্রা গ) ভয় ঘ) মৈথুন বা বংশ বৃদ্ধি । প্রশ্ন ৩- গানৰ জনা শ্ৰেষ্ঠ জন্ম কেন?
উত্তর : কারণ মানব জন্যেই জগৎকে, নিজেকে এবং ভগবানকে জেনে ভগবানের আরাধনা করে প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন ২৭:-মৃত্যু কাকে বলে?
উত্তর: আত্মার দেহ ত্যাগকে মৃত্যু বলে।
প্রশ্ন ২৮:- জড় দেবের পরিবর্তন কয়টি ও কি কি? উত্তর: জড় দেহের পরিবর্তন ছয়টি। যথা-
ক) জন বৃদ্ধি গ) হিত্তি গ) বংশবৃদ্ধি ঘ) চ) মৃত্যু প্রশ্ন ২৯:- কয়টি তত্ত্ব নিয়ে আমাদের দেহ গঠিত? উত্তর: ২৪টি তত্ত্ব।
প্রঃ। ৩০:- পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় কি কি? উত্তর: চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক। প্রশ্ন ৩১:- পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় কি কি? উত্তর: বাক্, পানি, পাদ, পায়ু, ও উপস্থ। প্রশ্ন ৩২ :- আমাদের দেহ কি দিয়ে গঠিত? উত্তর: পঞ্চমহাভূত। প্রশ্ন ৩৩ :- পঞ্চমহাভূত কি কি? উত্তর: মাটি, পানি, বায়ু, অগ্নিও আকাশ। প্রশ্ন ৩৪:- যুগ কয়টি ও কি কি?
উত্তর : যুগ চারটি। যথা-সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি।
1
প্রশ্ন ৩৫:- সত্যযুগের বয়স কত? উত্তর: ১৭,২৮,০০০ বছর। প্রশ্ন ৩৬:- ত্রেতা যুগের বয়স কত? উত্তর: ১২,৯৬,০০০ বছর। প্রশ্ন ৩৭:- দ্বাপর যুগের বয়স কত? : ৮,৬৪,০০০ বছর। প্রশ্ন ৩৮:- কলিযুগের বয়স কত? ৪,৩২,০০০ বছর।
প্রশ্ন ৩ :- কলিযুগের বর্তমান বয়স কত? উত্তরঃ ৫১১৬ বছর।
প্রশ্ন ৪০:- সত্যযুগের মানুষের নির্দিষ্ট বয়স কত ছিল? উত্তর: ১,০০,০০০ বছর।
প্রশ্ন ৪১:- ত্রেতাযুগে মানুষের নির্দিষ্ট বয়স কত ছিল? উত্তর: ১০,০০০ বছর।
প্রশ্ন ৪২:- দ্বাপর যুগে মানুষের নির্দিষ্ট বয়স কত?
উত্তর: ১,০০০ বছর।
প্রশ্ন ৪৩:- কলিযুগের মানুষের নির্দিষ্ট বয়স কত?
উত্তর: ১,০০ বছর।
প্রশ্ন ৪৪:- চারযুগ কতবার আবর্তিত হলে ব্রহ্মার একদিন হয়?
উত্তর: একহাজার বার।
প্রশ্ন ৪৫:- ব্রহ্মার আয়স্কাল কত?
উত্তর: ১০০ বছর।
প্রশ্ন ৪৬:- কখন মহাপ্রলয় হয়?
উত্তরঃ ব্রহ্মার আয়ূ একশ বছর পূর্ণ হলে।
প্রশ্ন ৪৭:- মহাপ্রলয়ের সময় সৃষ্টি কেথায় অবস্থান করে ?
উত্তর: মহাবিষ্ণুর ভেতরে।
প্রশ্ন ৪৮:- কোন যুগে ভগবানকে পাওয়ার উপায় কি? উত্তর: সত্যযুগে ধ্যান, ত্রেতাযুগে যজ্ঞ, দ্বাপরযুগে পূজা, হরিনাম সংকীতন।
কণিযুগে
প্রশ্ন ৪৯:- কোন যুগে ধর্ম কত ভাগ ছিল? উত্তর: সত্যযুগে চার ভাগের চার ভাগ ধর্ম, ত্রেতাযুগে চার ভাগের তিন ভাগ ধর্ম ও এক ভাগ অধর্ম, দ্বাপরযুগে চার ভাগের দুই ভাগ ধর্ম ও দুই ভাগ অধর্ম, কলিযুগে চার ভাগে এক ভাগ ধর্ম ও তিন ভাগ অধর্ম।
প্রশ্ন ৫০:- ভক্ত ভগবানের সঙ্গে কয়টি সম্পর্কের দ্বারা যুক্ত হতে পারেন? এবং সেগুলো কি কি?
উত্তর: ৫টি। যথা:
ক) শান্ত-নিষ্ক্রিয়ভাবে খ) দাস্য- সক্রিয়ভাবে গ) সখ্য-বন্ধুভাবে ঘ) বাৎসল্য অবিভাবকরূপে ঙ) মাধুর্য-দাম্পত্য প্রেমিক রুপে।
প্রশ্ন ৫১:- অধ্যাত্মবাদীদের কয়টি শেণীতে ভাগ করা যায় এবং কি কি? উত্তর: তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা: ক) জ্ঞানী খ) যোগী গ)
ভক্ত।
প্রশ্ন ৫২:- ভগবদ্গীতায় কোন পাঁচটি বিষয় প্রধানত আলোচিত হয়েছে? উত্তর: ক) ভগবানের স্বরুপ খ) জীবের স্বরুপ গ) জড়া প্রকৃতি স্বরুপ ঘ) কাল ও ঙ) কর্মের।
প্রশ্ন ৫৩:- ভগবানের স্বরুপ কি?
উত্তর: দ্বিভুজ শ্যামসুন্দর শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন ভগবানের স্বরুপ।
প্রশ্ন ৫৪:- জীবের স্বরুপ কি?
উত্তর: জীবের স্বরুপত্নীর নিজ পান।
প্রশ্ন ৫৫:- গুণভেদে ভক্তি কত প্রকার? এবং কি কি?
উত্তর: গুনভেদের ভক্তি চার প্রকার। যথা:-
ক)
। তামসিক ভক্তি খ) রাজসিক ভক্তি গ) সাত্ত্বিক ভক্তি ঘ) শুদ্ধ ভক্তি। প্রশ্ন ৫৬:- ভক্তিযোগ সাধণের প্রণালী কয়টি ও কি কি?
উত্তর: ভক্তিযোগ সাধণের প্রণালী ৯ টি। যথা:-
ক) শ্রবণ খ) কীর্তন গ) স্মরণ ঘ) পাদসেবন ঙ) অৰ্চন চ) বন্দন ছ) দাস্য জ) সখ্য ও ঝ) আত্মনিবেদন।
প্রশ্ন ৫৭:- সাধারণ মানুষের চারটি ত্রুটি কি কি? উত্তর: সাধারণ মানুষের চারটি ত্রুটি হচ্ছে- ক) ভ্রম-সাধারণ মানুষ ভুল করে
খ) প্রমাদ-সে মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন
গ) বিপ্রলিপ্সা-সে অন্যকে প্রতারণা করতে চেষ্টা করে এবং ঘ) করণাপাটব-সে তার ত্রুটিপূর্ণ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা সীমিত। প্রশ্ন ৫৮:- ভগবানের কয়প্রকার অবতার আছে? উত্তর: ভগবানের ছয় প্রকার অবতার আছে। যথা:-
ক) পুরুষাবতার খ) লীলাবতার গ) গুণাবতার ম) ম যুগাবতার চ) শক্ত্যাবেশ অবতার।
প্রশ্ন ৫৯:- গুণও কর্ম অনুসারে ভগবান কয়টি বর্ণ সৃষ্টি করেছেন? উত্তর: গুণও কর্ম অনুসারে ভগবান চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছেন। ক) ব্রাহ্মণ খ) ক্ষত্রিয় গ) বৈশ্য ঘ) শূদ্র।
প্রশ্ন ৬০:- ব্রাহ্মণের গুণ ও কর্ম কি?
উত্তর: ব্রাহ্মণের স্তন হচ্ছে সত্ত্বগুণ এবং কর্ম হচ্ছে ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন করে ভগবানের সেবা করা এবং অপর তিন বর্ণকে ব্রহ্মজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে ভাগবানে দিকে নিয়ে যাওয়া।
প্রশ্ন ৬১:- ক্ষত্রিয়ের গুণ ও কর্ম কি?
উত্তর: ক্ষত্রিয়ের প্রধান গুণ হচ্ছে রজোগুণ এবং কর্ম হচ্ছে রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালনা করা।
প্রশ্ন ৬২:- বৈশ্যের গুণ ও কর্ম কি?
উত্তর: বৈশ্যের প্রধান গুণ হল রজোগুণ ও তমোগুণ এবং কর্ম হচ্ছে গৌরক্ষা, কৃষিকাজ এবং ব্যবসা বাণিজ্য করা।
প্রশ্ন ৬৩:- শূত্রের প্রধান গুণ ও কর্ম কি?
উত্তর: শূদ্রের প্রধান গুণ হচ্ছে তমোগুণ এবং কর্ম হচ্ছে অপর তিন বর্ণের সেবা করা।
প্রশ্ন ৬৪:- বর্ণাশ্রম কয়টি ও কি কি?
উত্তর: বর্ণাশ্রম চারটি। যথা:-
ক) ব্রহ্মচর্য্য খ) গৃহস্থ গ) বানপ্রস্থ ঘ) সন্ন্যাস।
প্রশ্ন ৬৫ - ব্রহ্মচর্যাশ্রমের কাজ কি।
উত্তর: ব্রহ্মচর্যাশ্রমের প্রধান কাজ হচ্ছে জ্ঞানার্জন করা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে মেয়েদের সতীর্থ রক্ষা করতে হবে এবং ছেলেদের পুরুষত্ব রক্ষা করতে হবে।
প্রশ্ন ৬৬ - জ্ঞান কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: জ্ঞান দুই প্রকার। যথা:-
খ) জড়জাগতিক জ্ঞান (অনিত্য) ও খ) পারমার্থিক জ্ঞান (নিত্য)। প্রশ্ন ৬৭:- সতীত্ব রক্ষা ও পুরুষত্ব রক্ষা বলতে কী বুঝায়? উত্তর: সতীত্ব রক্ষা হলো-বিবাহের আগে কিংবা পরে স্বামী হড়া অন্য কোন পুরুষের সাথে দৈহিক কোন সম্পর্ক গঠন না করা। এবং পুরুষর রক্ষা হলো-বিবাহের আগে কিংবা পরে স্ত্রীছাড়া অন্য কোন নারীর সাথে দৈহিক কোন সম্পর্ক গঠন না করা।
প্রশ্ন ৬৮:- কত প্রকার মানুষ ভগবানের শরণাগত হয় না এবং তারা কান্না।
উত্তর: চার প্রকার মানুষ ভগবানের শরনাগত হয় না। যথা:-
ক) মূঢ় খ) নরাধম গ) মান্নাপহৃত আনা ও ঘ) আসুরিক ভাবাপন্ন। প্রশ্ন ৬৯:- কত প্রকার মানুষ ভগবানের শরণাগত হয়? উত্তর: চারপ্রকার। যথা:-
ক) আর্দ্র-দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য খ) অর্থার্থী- টাকা-পয়সা, ধন-স চাওয়ার জন্য
গ) জিজ্ঞাসু-তত্ত্বজ্ঞান জানার জন্য ঘ) জ্ঞানী-পরম কর্তব্যবোধে। প্রশ্ন ৭০:- ভগবানকে পাওয়ার প্রথম উপায় কি?
উত্তর: মনকে ভগবানের শ্রীচরণে অর্পন করা।
প্রশ্ন ৭১:- মনকে ভগবানের শ্রীচরণে দিতে না পারলে কি করতে হ উত্তর: বার বার অভ্যাস করতে হবে।
প্রশ্ন ৭২:- অভ্যাস করতে না পারলে কি করতে হবে।
উত্তর: ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য কর্ম করতে হবে।
প্রশ্ন ৭৩:- ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য কর্ম করতে না পারিলে কি করে হবে?
উত্তর: জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
প্রশ্ন ৭৪:- জ্ঞান থেকে কি শ্রেষ্ঠ, ধ্যান থেকে কি শ্রেষ্ঠ? উত্তর: জ্ঞান থেকে ধ্যান শ্রেষ্ঠ, ধ্যান থেকে কর্মফল ত্যাগ শ্রেষ্ঠ।
প্রশ্ন ৭৫:- কর্মফল ত্যাগ বলতে কী বুঝানো হয়েছে? উত্তর: কর্ম করে কর্মের ফল ভগবানের শ্রীচরণে অর্পন করা।
প্রশ্ন ৭৬:- যারা কর্মফল সম্পূর্ণরুপে ভগবানকে অর্পণ করতে অক্ষম তাদের কর্তব্য কি?
উত্তর: আংশিক হলেও ভগবানকে অর্পন করা।
প্রশ্ন ৭৭:- শাস্ত্রমতে উপার্জিত অর্থকে কিভাবে ব্যয় করতে বলা হয়েছে? উত্তর: শাস্ত্রমতে উপার্জিত অর্থকে পাঁচভাগে ভাগ করে ব্যয় করতে বলা হয়েছে।
ক) একভাগ-ভগবানের সেবার জন্য খ) একভাগ-ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গ) একভাগ-আত্মীয় স্বজনের জন্য
ঘ) একভাগ-গরীব-দুঃখীদের জন্য এবং ঙ) একভাগ নিজের জন্য। প্রশ্ন ৭৮:- সুখ শান্তি আনন্দ কোনটি কার জন্য?
উত্তর: সুখ-দেহের জন্য, শাস্তি-মনের জন্য, আনন্দ-আত্মার জন্য। প্রশ্ন ৭৯:- আমারা কেউ মরতে চাইনা কেন?
উত্তর: কারণ আমাদের প্রকৃত স্বরুপ আত্মা হচ্ছে নিত্য, যার মৃত্যু নেই। প্রশ্ন ৮০:- আমরা জানতে চাই কেন?
উত্তর: কারণ আমাদের প্রকৃত স্বরুপ আত্মা হচ্ছে জ্ঞানময়। আর জ্ঞান শব্দের অর্থ হচ্ছে জানা। তাই আমরা জানতে চাই।
প্রশ্ন ৮১:- আমরা আনন্দে থাকতে চাই কেন?
উত্তর: কারণ আমাদের প্রকৃত স্বরুপ আত্মা হচ্ছে দিব্য আনন্দময়। তাই আমরা আনন্দে থাকতে চাই।
প্রশ্ন ৮২:- আনন্দের উৎস কি? উত্তর: ভালবাসা।
প্রশ্ন ৮৩:- কাকে ভালবাসতে হবে?
উত্তরঃ প্রেমময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে।
প্রশ্ন ৮৪:- প্রত্যেকের হৃদয়ে সুপ্তভাবে কি বিরাজমান থাকে? উত্তর: ভগবদ প্রেম ।
প্রশ্ন ৮৫:- প্রেম কাকে বলে?
উত্তরঃ প্রেমময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয়কে সন্তুষ্ট করার ইচ্ছাই প্রেম।
প্রশ্ন ৮৬:- কাম কাকে বলে?
উত্তর: নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির ইচ্ছাই হচ্ছে কাম।
প্রশ্ন ৮৭ :- কিসের প্রভাবে জীবরে হৃদয়ের সুপ্ত ভগবদ প্রেম কামে পরিণত হয়?
উত্তর: রজোগুনের প্রভাবে।
প্রশ্ন ৮৮:- বদ্ধ জীবের সবচেয় প্রিয় বস্তু কি?
উত্তর: তার দেহ।
প্রশ্ন ৮৯:- গৃহস্থ জীবনের পরম কর্তব্য কি?
উত্তর: কৃষ্ণভক্ত সন্তান উৎপাদন করা।
প্রশ্ন ৯০:- ভক্তি কাকে বলে?
উত্তর: ভগবানের প্রতি গভীর অনুরাগই ভক্তি।
প্রশ্নোত্তরে গীতার শিক্ষা কুইজ:-
প্রথম অধ্যায়-বিষাদ যোগ
প্রশ্ন ৯১:- অন্ধরাজা ধৃতরাষ্ট কুরুক্ষেত্র নামক স্থানকে কি বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: ধর্মক্ষেত্র বলে সম্বোধন করেছেন।
প্রশ্ন ৯২ - গীতায় ধৃতরাষ্ট্রের প্রথম প্রশ্ন কি ছিল?
উত্তর: ধর্ম ক্ষেত্রে যুদ্ধ করার মানসে আমার পুত্র ও পান্ডুর পুত্ররা তারপর কি করল?
প্রশ্ন ৯৩:- দুর্যোধনের প্রথম সেনাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: দ্রোনাচার্য।
প্রশ্ন ৯৪:- কুরুক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মহারথীদের কে পরিচয় করিয়ে দিলেন?
উত্তর: দুর্যোধন।
প্রশ্ন ৯৫:- আমাদের সৈন্য সংখ্যা অপরিমিত এবং আমরা পিতামহ ভীষ্মের দ্বারা পূর্ণরূপে সুরক্ষিত? বক্তব্যটি কার? উত্তর: দুর্যোধনের।
প্রশ্ন ৯৬:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শঙ্খের নাম কি? উত্তর: পাঞ্চজন্য।
প্রশ্ন ৯৭:- মহারাজ যুধিষ্ঠিরের শঙ্খের নাম কি? উত্তর: অনন্তবিজয়।
প্রশ্ন ৯৮:- নকুলের শঙ্খের নাম কি? উত্তর: সুঘোষ ।
প্রশ্ন ৯৯:- সহদেবের শঙ্খের নাম কি? উত্তর: মনিপুষ্পক ।
প্রশ্ন ১০০:- অর্জুনের শঙ্খের নাম কি? উত্তর: দেবদত্ত।
প্রশ্ন ১০১:- ভীমের শঙ্খের নাম কি ? উত্তর: পৌণ্ড্র।
প্রশ্ন ১০২:- অর্জুনের রথের পতাকায় কি চিহ্ন ছিল? উত্তর: হনুমান।
প্রশ্ন ১০৩:- কুস্তিপুত্র অর্জুন কুরুক্ষেত্রে কি দেখে বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন? উত্তর: আত্মীয় স্বজনদের দেখে।
প্রশ্ন নং:-১০৪: মাধব নামের অর্থ কি?
উত্তর: লক্ষ্মীপতি শ্রীকৃষ্ণ।
প্রশ্ন ১০৫:- কখন বংশে অধর্ম আবির্ভূত হয়?
উত্তরঃ যখন কুলক্ষয় বা সনাতন কুল ধর্ম বিনষ্ট হয় ।
প্রশ্ন ১০৬:- বংশে অধর্ম প্রবেশ করলে কি হয়? উত্তর: কুলবধুগণ ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয় । প্রশ্ন ১০৭:- কুলবধূগণ ব্যভিচারে করলে কি হয়? উত্তর: অবাঞ্চিত সন্তান উৎপন্ন হয় । প্রশ্ন ১০৮:- পিন্ডদান না করলে কি হয়? উত্তর: পিতৃপুরুষেরা নরকগামী হয়।
প্রশ্ন ১০৯:- গীতার প্রথম অধ্যায়ের নাম কি? উত্তর: বিষাদ যোগ।
প্রশ্ন ১১০ :- গীতার প্রথম অধ্যায়ে কতগুলো শ্লোক আছে? উত্তর: ৪৬ টি শ্লোক।

0 মন্তব্যসমূহ