অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১২
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মঙ্গলাচরণ
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
অর্থ: অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি নিমজ্জিত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জনের দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার জ্ঞানচক্ষু উন্মুক্ত করেছেন। সেই শ্রীগুরুকে আমি প্রণাম জানাই।
🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম-মন্ত্র পাঠ করুন 🙏
বাঞ্ছা-कल्प-তরুভ্যশ্চ কৃপা-সিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।
অর্থ: যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত আত্মাদের পরিত্রাতা—সেই সকল বৈষ্ণব ভক্তদের প্রতি আমার বারংবার প্রণাম।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎ কৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবম্।।
অর্থ: যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয় এবং পঙ্গুও পর্বত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়—সেই পরমানন্দময় মাধবকে আমি বন্দনা করি।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।
অর্থ: হে করুণাময় কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীদের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমাকে আমার প্রণাম।
তপ্ত-কাঞ্চন-গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানু-সুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
অর্থ: হে রাধারাণী! তপ্ত স্বর্ণের ন্যায় তোমার কান্তি। তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা এবং ভগবান হরির পরম প্রিয়া। তোমাকে আমি শ্রদ্ধাভরে প্রণাম জানাই।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
অর্থ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস এবং সমগ্র গৌরভক্তবৃন্দের চরণে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।
✨ মহামন্ত্র ✨
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে 🙏
অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে৷
গতাসূনগতাসূংশ্চ নানুশোচন্তি পণ্ডিতাঃ৷৷১১
অর্থ: ভগবান বললেন- তুমি প্রজ্ঞের মত কথা বলছ অথচ যে বিষয়ে শোক করা উচিত নয় সে বিষয়ে শোক করছ। যারা যথার্থই পন্ডিত তারা কখনো জীবিত বা মৃত কারোর জন্য শোক করে না।
ন ত্বেবাহং জাতু নাসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ৷
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃ পরম্৷৷১২
অর্থ: এমন কোন সময় ছিল না যখন আমি, তুমি এবং এই সমস্ত রাজারা ছিল না এবং ভবিষ্যতেও দেহী কখনো আমাদের অস্তিত্ব বিনষ্ট হবে না ।
দেহিনোস্মিন্যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা৷
তথা দেহান্তরপ্রাপ্তির্ধীরস্তত্র ন মুহ্যতি৷৷১৩
অর্থ: দেহী যে ভাবে কৌমার যৌবন এবং জরার মাধ্যমে দেহের রুপ পরিবর্তন করে চলে, মৃত্যুকালে ঐ দেহী এক দেহ থেকে অন্য কোন দেহে দেহন্তারীত হয়। স্থিত প্রজ্ঞ পন্ডিতেরা কখনো এই পরিবর্তনে মূহ্যমান হয় না ।
মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ৷
আগমাপায়িনোনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত৷৷১৪
অর্থ: হে কৌন্তেয়, ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিষয়ের সংযোগের ফলে যে অনিত্য সুখ ও দুঃখের অনুভব হয় সেগুলি যেন শীত এবং গ্রীষ্ম ঋতুর গমনা-গমনের মত। হে ভরতকুল প্রদীপ, সেই ইন্দ্রিয় অনুভূতির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সেগুলি সহ্য করার চেষ্টা কর।
যং হি ন ব্যথযন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ৷
সমদুঃখসুখং ধীরং সোমৃতত্বায় কল্পতে৷৷১৫
অর্থ: হে পুরুষশ্রেষ্ট, যে জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ-দুঃখ ,শীত-উষ্ণ আদি দ্বন্ধে বিচলিত হন না তিনি অমৃত তত্ত্বের প্রকৃত অধিকারী হন।
আমলকী একাদশীর মাহাত্ম্য!
প্রাচীনকালে বৈদিশ নামক নগরীতে চৈত্ররথ নামে এক রাজা ছিলেন। সেখানকার বিষ্ণুভক্ত প্রজারা একাদশী ব্রত পালন করতেন। একবার আমলকী একাদশীতে তারা প্রাতঃস্নানের পর মন্দিরে যান। ধূপ- দীপ দিয়ে যত্ন সহকারে মুনি-ঋষিদের দ্বারা শ্রীপরশুরাম মূর্তি সমন্বিত আমলকীর পূজা করেন, রাত্রিজাগরণ করেন। দৈবক্রমে একজন ব্যাধ উপস্থিত হয়ে তা দেখতে পেয়ে সে সেখানে বিগ্রহ দর্শন, রাত্রি জাগরণ, একাদশীর মাহাত্ম্য শ্রবণ করলেন। একসময় সেই ব্যাধের মৃত্যু হলে সে বিদুরথ রাজার পুত্র বসুরথ নামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজা একবার শিকারে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লে কিছু ম্লেচ্ছ রাজা তাকে শত্রু মনে করে তাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। রাজার শরীর থেকে তখন নানা অলঙ্কারে বিভূষিতা এক পরমা সুন্দরী স্ত্রী মূর্তি আবির্ভূত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সকল পাপী ম্লেচ্ছকে নিধন করল। রাজার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর, সে তার প্রাণরক্ষাকারীর সন্ধান করতে থাকেন। তারপর দৈববাণী শুনে বুঝতে পারলেন স্বয়ং ভগবান এসেছিলেন।
যে মানুষ এই পরম-উত্তম আমলকী একাদশী ব্রত পালন করেন তিনি নিঃসন্দেহে বিষ্ণুলােক প্রাপ্ত হন। একাদশীর দিন আমলকী বৃক্ষের তলে রাত্রি জাগরণ করলে সহস্র গাভী দানের ফল লাভ হয়।
0 মন্তব্যসমূহ