Ticker

6/recent/ticker-posts

অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১১। Online Gita Class Episode 11

 🌼 অনলাইন গীতা ক্লাস – পর্ব ১১ 🌼

শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতার মঙ্গলাচরণ

ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

অর্থ:
অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমি আবৃত ছিলাম। গুরুদেব জ্ঞানের অঞ্জন দ্বারা সেই অন্ধকার দূর করে আমার চক্ষু উন্মীলিত করেছেন। তাঁকেই আমি প্রণাম জানাই।

🙏 নিজ নিজ গুরুদেবের প্রণাম-মন্ত্র পাঠ করুন 🙏


বাঞ্ছা-कल्प-তরুভ্যশ্চ কৃপা-সিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেব্যো বৈষ্ণবেব্যো নমো নমঃ।।

অর্থ:
যাঁরা মনোবাঞ্ছা পূরণকারী, করুণার সাগর এবং পতিত জীবের উদ্ধারকর্তা—সেই সকল বৈষ্ণব ভক্তদের প্রতি বারংবার প্রণাম।


মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎ কৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবম্।।

অর্থ:
যাঁর কৃপায় বোবা বাকপটু হয় এবং পঙ্গুও পর্বত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়—সেই পরমানন্দ মাধবকে আমি বন্দনা করি।


হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।।

অর্থ:
হে করুণাসিন্ধু কৃষ্ণ! তুমি দীনবন্ধু, জগতের অধিপতি, গোপবৃন্দের প্রভু ও গোপীদের প্রিয়তম। হে রাধাকান্ত, তোমাকে প্রণাম।


তপ্ত-কাঞ্চন-গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানু-সুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।

অর্থ:
হে রাধারাণী! তপ্ত স্বর্ণসম তোমার কান্তি। তুমি বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, রাজা বৃষভানুর কন্যা এবং ভগবান হরির প্রিয়তমা। তোমাকে আমি প্রণতি জানাই।


শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।

অর্থ:
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, গদাধর, শ্রীবাস এবং সমগ্র গৌরভক্তবৃন্দকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।


✨ মহামন্ত্র ✨

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে


ভগবান উবাচ
কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্৷
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন৷৷২

অর্থ: ভগবান বললেন- প্রিয় অর্জুন, এই ঘোর সংঙ্কটময় যুদ্ধস্থলে যারা প্রকৃত জীবনের মূল্য বোঝেনা সেসব অনার্যের মত শোকানল তোমার হৃদয়ে কিভাবে প্রজ্জলিত হল। এই রকমের মনোভাব তোমাকে স্বর্গলোকে উন্নীত করবে না। পক্ষান্তরে তোমার সমস্ত যশরাশি বিনষ্ট হবে।

ক্লৈব্যং মা স্ম গমঃ পার্থ নৈতত্ত্বয্যুপপদ্যতে৷
ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্ত্বোত্তিষ্ঠ পরন্তপ৷৷৩

অর্থ: হে পার্থ, এই অসন্মানজনক ক্লীবত্তের বশবর্তী হয়ো না, এই ধরনের আচরণ তোমার পক্ষে অনুচিত। হে পরন্তপ, হৃদয়ের দুর্বলতা পরিত্যাগ করে উঠে দাড়াও।


অর্জুন উবাচ
কথং ভীষ্মমহং সংঙ্খ্যে দ্রোণং চ মধুসূদন৷
ইষুভিঃ প্রতি যোত্স্যামি পূজার্হাবরিসূদন৷৷৪

অর্থ: অর্জুন বললেন -হে মধুসূদন, এই যুদ্ধক্ষেত্রে ভীষ্ম এবং দ্রোণের মত পরম পূজনীয় ব্যক্তিদের কেমন করে আমি বাণের দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

গুরূনহত্বা হি মহানুভাবান্
শ্রেয়ো ভোক্তুং ভৈক্ষ্যমপীহ লোকে৷
হত্বার্থকামাংস্তু গুরূনিহৈব
ভুঞ্জীয় ভোগান্ রুধিরপ্রদিগ্ধান্৷৷৫

অর্থ: আমার মহানুভব শিক্ষাগুরুদের জীবন হানি করে এই জগৎ ভোগ করার থেকে বরং ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করা ভাল। তারা জড়জাগতিক লোভার্থী হলেও আমার গুরুজন। তাদের হত্যা করা হলে যুদ্ধলব্ধ ভোগ যে রক্তমাখা হবে।


ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীয়ো
যদ্বা জয়েম যদি বা নো জয়েয়ুঃ৷
যানেব হত্বা ন জিজীবিষাম-
স্তেহবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ৷৷৬

অর্থ: তাদের জয় করা ভাল না তাদের দ্বারা পরাজিত হওয়া ভাল তাও আমি বুঝতে পারছি না।এই রণাঙ্গণে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে ধৃতরাষ্ট্রের যে পুত্রেরা তাদের হত্যা করা হলে আমাদের আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করবে না।

কার্পণ্যদোষোপহতস্বভাবঃ
পৃচ্ছামি ত্বাং ধর্মসংমূঢ়চেতাঃ৷
যচ্ছ্রেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রূহি তন্মে
শিষ্যস্তেহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্৷৷৭

অর্থ: কার্পণ্যজনিত দুর্বলতার প্রভাবে আমি এখন কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়েছি, আমার কর্তব্য সম্বন্ধে বিভ্রান্ত হয়ে আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি- এখন কি করা আমার পক্ষে শ্রেয়স্কর। এখন আমি তোমার শিষ্য, সর্বতভাবে তোমার শ্বরণাগত, দয়া করে তুমি আমাকে শিক্ষা দাও।

ন হি প্রপশ্যামি মমাপনুদ্যাদ
যচ্ছোকমুচ্ছোষণমিন্দ্রিয়াণাম্৷
অবাপ্য ভূমাবসপত্নমৃদ্ধম্
রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যম্৷৷৮

অর্থ: আমার ইন্দ্রিয়গুলিকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে যে শোক তা কিভাবে আমি দূর করব তা আমি জানি না। স্বর্গের দেবতাদের মত আধিপত্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা বিহীন রাজ্য এই পৃথিবীতে লাভ করলেও আমার এই শোকের বিনাশ হবে না।

সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্ত্বা হৃষীকেশং গুড়াকেশঃ পরন্তপ৷
ন যোত্স্য ইতি গোবিন্দমুক্ত্বা তূষ্ণীং বভূব হ৷৷৯

অর্থ: সঞ্জয় বললেন- এই ভাবে তার মনোভাব ব্যক্ত করে গুড়াকেশ অর্জুন তখন হৃষীকেশকে বললেন, হে গোবিন্দ আমি যুদ্ধ করব না এবং এই বলে তিনি মৌন হলেন।

তমুবাচ হৃষীকেশঃ প্রহসন্নিব ভারত৷
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে বিষীদন্তমিদং বচঃ৷৷১০

অর্থ: হে ভারতবংশীয় ধৃতরাষ্ট্র, সে সময় স্মিত হেসে শ্রীকৃষ্ণ উভয়পক্ষ ও সৈন্যদের মাঝখানে বিষাদগ্রস্ত অর্জুনকে এই কথা বললেন-

শিক্ষনীয় বিষয়:

 ১। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হওয়া 


২। মধুসূদন নামের তাৎপর্য 


৩। কর্তব্যে অবহেলা 


৪। পিতামহ ভীষ্ম এবং গুরু দ্রোণাচার্য্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ 


৫। অর্জুনের যুদ্ধ না করে ভিক্ষাভিত্তি গ্রহনের ইচ্ছা-টাকা পয়সা ধন সম্পত্তি ঐশ্বর্য মানুষকে প্রকৃত সুখ দিতে পারে না 


৬। কিংকর্তব্যবিমুঢ়তা


৭। জীবনে গুরুর প্রয়োজনীয়তা



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ