Ticker

6/recent/ticker-posts

শ্রীমগবদ্‌গীতা সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত বিভ্ৰাসমূহ problem Slove

 


শ্রীমগবদ্‌গীতা সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত বিভ্ৰাসমূহ

১) এত অল্প বয়সে গীতা পড়ার কী দরকার? জীবনে কত সময় পড়ে আছে। গীতা পড়ার উপযুক্ত সময় হলো বৃদ্ধকাল।

২) গীতা পাঠের সময় ভুল উচ্চারণ করলে পাপ বা অপরাধ হয়। আমরা তো সংস্কৃত লেখা উচ্চারণই করতে পারি না- কীভাবে গীতা পড়ব? ভুলভাবে গীতা পড়ার চেয়ে গীতা না পড়াই ডাল।

৩) গীতা পড়লে মানুষ সাধু হয়ে যায়, মা-বাবাকে ত্যাগ করে। যাঁদের কাজ কর্ম নেই, চাকরি-বাকরি করে না সেইসব সাধুরাই গীতা পড়ে। গীতা পাঠ সাধারণ মানুষদের জন্য নয়।

৪) গীতাকে সর্বদা লালসালু দিয়ে বেঁধে রেখে নিভা ফুল তুলসী দিয়ে পূজা করতে হয়। যখন তখন এটাতে হাড দেওয়া উচিত নয়। গীতা কেবল ভগবানের আসনে রাখাই শ্রেয়।

৫) ক্লাসের পাঠ্য বই পড়লে পরীক্ষায় অনেক নাম্বার পাবে, গীতা পড়লে নাম্বার কে দেবে? বিজ্ঞানভিত্তিক বই পড়লে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা শিখবে, গীতা কী উদ্ভাবন করাবে? বাস্তব ভিত্তিক বই পড়লে জগতে কী হচ্ছে সব জানা যায়, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ঐসব বই পড়তে হবে। গীতা পড়লে কি এসব জানা যাবে? কর্ম করেই তো খেতে হবে, গীতা পড়লে কি সংসার চলবে?

৬) আমি অনেক ব্যস্ত, গীতা পড়ার জন্য আমার সময় নেই, সারাদিন কাজ করে সময় পাওয়া যায় না, এগুলো

কখন পড়ব?

৭) ব্রাহ্মণ গীতা পাঠ করবে, সেবা পূজা করবে-এটা তাঁর কাজ। আমরা সংসার নিয়ে ব্যস্ত, আমাদের এসব জেনে কী হবে? এসব আমাদের জন্য নয়।

৮)গীতা পাঠ করে যদি যাহাত্ম্য পড়া না হয় তাহলে তা সম্পূর্ণ বৃথা।

৯) অশৌচ অবস্থায় (জননাশৌচ, মরণাশৌচ, রজস্বলা অবস্থা ইত্যাদি) গীতা স্পর্শ করা যায় না, পাঠও করা যায় না। ১০) মরার আগে গীতা পড়ার দরকার নেই। মরার পরেই কেবল মৃত ব্যক্তির বুকের উপর গীতা দিতে হয়।

১১) গীতা পাঠ করে কী পেট ভরবে? গীতা পড়লে কি ধন সম্পদ আসবে? গীতা পাঠ করে সময় নষ্ট না করে উৎপাদন বাড়ানো, দারিদ্রতা কমানো, দেশকে রক্ষা করার জন্য শরীরের কসরত করা উত্তম। গীতা না পড়ে ফুটবল খেলা অনেক ভাল।

১২) যখন তখন গীতা পড়া যায় না। এর জন্য নির্দিষ্ট সময় সূচি থাকা দরকার।

১৩) গীতার জ্ঞান শুধু অর্জুনের জন্য, এটা আমাদের জন্য নয়। গীতাতে শুধু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সেটা পড়ে আমাদের কী লাভ?

১৪) গীতা হচ্ছে ৫০০০ বছরের পুরানো। এখন আধুনিক যুগ আমরা আধুনিক বই পড়ব। গীতা তো দ্বাপর যুগে দেওয়া হয়েছিল। কলিযুগে গীতার উপযোগিতা নেই।

১৫) দীক্ষা না নিলে গীতা পড়া যাবে না, দীক্ষা না নিয়ে গীতা পড়লে সবই বিফল হয়।

১৬) গীতা যে ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী বলছো, এটার কি প্রমাণ আছে? তুমি কি দেখতে গিয়েছিলে? কৃষ্ণ- অর্জুন বাস্তবে কোনো কিছুই ছিল না, সবটাই তোমাদের মনগড়া কথা।

১৭) আমার পূর্বপুরুষেরা গীতা পড়েনি, তাই আমরাও গীতা পড়তে পারব না।

১৮) গীতা পড়ে যদি শ্লোকের অর্থ বোঝা না যায় তাহলে গীতা পাঠ বৃথা।

১৯) গীতাকে সবসময় ভগবানের আসনের পাশে রাখতে হয়। কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা সকাল-সন্ধ্যায় আসনের পাশে বসেই গীতা পড়তে হবে, অন্য কোথাও নয়।

২০) আমার পুরো গীতা মুখস্থ কিন্তু আমার কোনও গুরু গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

(২) ছোট গীতা পড়াই যথেষ্ট, বড় গীতা পড়ার দরকার নেই।

২২) কেবলমাত্র নিজের গুরুদেবের লেখা গীতাই পড়তে হয়, অন্য কারো লেখা পড়া যাবে না।

২৩) গীতা পড়তে না পারলে ঘরে রাখলে পাপ হয়।

২৪) গীতা হচ্ছে ভিতা, বিরক্তিকর। আমাদের মনোমুগ্ধকর, মজাদার ও জমকালো কিছু চাই।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ