🔱 দামোদর মাসে প্রদীপদান ও ব্রত পালনের মাহাত্ম্য 🔱
দামোদর বা কার্তিক মাসে ভক্তিভরে দেবালয়ে দীপদান, অখণ্ড দীপাবলীর আয়োজন, বাড়িতে দীপমালা সজ্জা ও আকাশপ্রদীপ দান করলে ভগবান শ্রীহরির বিশেষ কৃপা লাভ হয়।
এই মাস নিয়মিত সেবা, ভক্তি ও অক্ষয় পুণ্য অর্জনের সময়। তাই এ মাসে সকলেরই নিরামিষ ভোজন করা এবং প্রতিদিন শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম স্কন্ধের দামবন্ধন লীলা পাঠ করা শ্রেয়।
দিনের বেলায় ভোগরাগ ও প্রসাদ গ্রহণেরও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
📜 স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত আছে —
“অব্রতেন ক্ষিপেদ যন্ত মাসং দামোদর–প্রিয়ম।
তির্যগমোনীমবাপ্নোতি সর্বধর্ম বহিষ্কৃতঃ।।
স ব্রহ্মহ স গোঘ্নশ্চ স্বর্ণস্তেয়ী সদানুতী।
ন করোতি মুণিশ্রেষ্ঠ যো নঃ কার্ত্তিকে ব্রতম।।
অর্থাৎ, হে মুণিশ্রেষ্ঠ নারদ! যে ব্যক্তি ভগবান শ্রীদামোদরের প্রিয় এই কার্তিক মাস ব্রতবিহীনভাবে অতিবাহিত করে, সে সমস্ত ধর্ম থেকে বঞ্চিত হয় এবং নিম্ন জন্ম প্রাপ্ত হয়।
যে কার্তিক ব্রত পালন করে না, সে ব্রহ্মঘাতী, গোঘাতী, স্বর্ণচোর ও সদা মিথ্যাবাদী রূপে গণ্য হয়।”
🪔 দামোদর আরতির নিয়ম:
ঘৃত বা তিলতেলে কর্পূর মিশ্রিত প্রদীপ দ্বারা ভক্তিসহকারে ভগবানের আরতি করতে হয় —
- চরণে ৪ বার,
- নাভি দেশে ২ বার,
- মুখমণ্ডলে ৩ বার,
- সর্বাঙ্গে ৭ বার প্রদীপ ঘুরিয়ে আরতি করুন।
ডান দিক থেকে প্রদীপ ঘুরাতে হবে, এবং মাটির প্রদীপ একবারই ব্যবহারযোগ্য।
🐭 একটি কাহিনির উল্লেখ রয়েছে:
একবার এক স্ত্রী ইঁদুর কার্তিক মাসের একাদশীর দিনে প্রদীপের তেল খেতে গিয়ে ভুলক্রমে প্রায় নিভে যাওয়া প্রদীপটিকে তার মুখ দিয়ে নাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রদীপটি পুনরায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
এই সামান্য সুকৃতির ফলেই সে বৈকুণ্ঠগতি লাভ করে।
✨ শাস্ত্রে আরও বলা হয়েছে:
যদি কেউ প্রদীপ না দেখাতে পারে, তবে শুধুমাত্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত বিষ্ণু মন্দির দর্শন করলেও তার বংশের কেউ নরকে যায় না।
🕉️ শ্রীল প্রভুপাদ মহারাজের বাণী অনুসারে:
দামোদর মাসে যারা ভক্তিসহকারে ভগবান শ্রীদামোদরের আনন্দ বিধানের উদ্দেশ্যে প্রদীপ নিবেদন করেন, তাদের হৃদয়ের অজ্ঞান অন্ধকার দূর হয়।
তাদের অন্তরে জ্ঞানপ্রদীপ জ্বলে উঠে, সমস্ত পাপ ও কলুষতা দূরীভূত হয়, এবং শেষপর্যন্ত তারা কৃষ্ণভক্তি অর্জন করে গোলোকে গতি লাভ করেন।
📚 দামোদর ব্রত মাহাত্ম্য গ্রন্থ
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে “দামোদরব্রত মাহাত্ম্য” গ্রন্থ সংগ্রহ করতে পারেন — এটি যে কোনো ISKCON মন্দিরে পাওয়া যায়।
🌺 শ্রীদামোদরায় নমঃ 🌺

0 মন্তব্যসমূহ